এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশ: ট্রাম্প থেকে প্রিন্স অ্যান্ড্রু—নতুন নথিতে কী উঠে এলো

ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ যৌন অপরাধে অভিযুক্ত ও মৃত ধনকুবের জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নথিভাণ্ডার প্রকাশ করেছে। শুক্রবার প্রকাশিত এই নতুন দফায় তিন মিলিয়নের বেশি নথি, এক লাখ আশি হাজার ছবি এবং দুই হাজার ভিডিও জনসমক্ষে আনা হয়। আইনে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার ছয় সপ্তাহ পর এই নথিগুলো প্রকাশ করা হলো।

নথিগুলোতে এপস্টেইনের কারাবাসকালীন মানসিক মূল্যায়ন, তার মৃত্যুর তদন্তসংক্রান্ত তথ্য এবং সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের নথি রয়েছে। পাশাপাশি বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে এপস্টেইনের ই-মেইল যোগাযোগও এতে অন্তর্ভুক্ত, যা তার রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগের বিস্তার নতুন করে সামনে এনেছে।

নতুন নথিতে যুক্তরাজ্যের প্রিন্স অ্যান্ড্রু সম্পর্কিত একাধিক ই-মেইলের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে বাকিংহাম প্যালেসে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের আলোচনা এবং এক রুশ নারীর সঙ্গে পরিচয়ের প্রস্তাবের কথাও উঠে এসেছে। যদিও এসব ই-মেইলে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবু এপস্টেইনের সঙ্গে রাজপরিবারঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সম্পর্ক নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

নথিতে সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের স্বামীকে অর্থ পাঠানোর তথ্যও উঠে এসেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম শতাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে সেগুলো ভিত্তিহীন ও প্রমাণবিহীন। হোয়াইট হাউসও একই অবস্থান নিয়েছে।

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সঙ্গে এপস্টেইনের ই-মেইল যোগাযোগেও আলোচনার ঝড় উঠেছে। সেখানে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে ‘বন্য পার্টি’ নিয়ে কথোপকথনের ইঙ্গিত মিললেও, মাস্ক সেখানে গিয়েছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ নেই। মাস্ক নিজেও দাবি করেছেন, তিনি কোনো অপরাধে জড়িত নন এবং এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ককে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।

এদিকে বিল গেটসকে ঘিরে নথিতে থাকা কিছু ‘লুরিড’ বা চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তার মুখপাত্র। তারা জানিয়েছেন, এসব দাবি একজন ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ মিথ্যাবাদীর কল্পনা’ ছাড়া কিছু নয়।

তবে সবচেয়ে তীব্র সমালোচনা এসেছে ভুক্তভোগীদের পরিচয় প্রকাশ ঘিরে। নারী অধিকার আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড বলেছেন, নতুন নথিতে অনেক ভুক্তভোগীর নাম ও ছবি প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জন্য নতুন করে মানসিক আঘাত। তিনি একে বিচার বিভাগের ‘চরম দায়িত্বহীনতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

বিচার বিভাগ বলছে, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় রিড্যাকশন করা হয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা অভিযোগ তুলেছেন, এখনও প্রায় ২৫ লাখ নথি গোপন রাখা হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশে অনেক অজানা তথ্য সামনে এলেও, ক্ষমতাবানদের দায়বদ্ধতা ও পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটনের প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।

বেলাল হোসেন/