
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-ক্যানেল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিউবার অর্থনীতি ‘শ্বাসরোধ’ করার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন। কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিকে তিনি ‘ফ্যাসিবাদী, অপরাধমূলক ও গণহত্যামূলক’ আখ্যা দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন, যাতে কিউবায় তেল বিক্রি করে এমন যেকোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়। আদেশে দাবি করা হয়, কমিউনিস্ট-শাসিত কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অস্বাভাবিক ও গুরুতর হুমকি’।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দিয়াজ-ক্যানেল বলেন, “মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অজুহাতে ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার অর্থনীতি শ্বাসরোধ করতে চাইছে। যারা সার্বভৌমভাবে কিউবার সঙ্গে তেল বাণিজ্য করে, তাদের ওপর শুল্ক চাপানোর পরিকল্পনা তারই অংশ।”
তিনি বলেন, “এই নতুন পদক্ষেপ একটি গোষ্ঠীর ফ্যাসিবাদী, অপরাধমূলক ও গণহত্যামূলক চরিত্র উন্মোচন করেছে যারা নিজেদের স্বার্থে মার্কিন জনগণের স্বার্থ জিম্মি করে রেখেছে।” তার বক্তব্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবায় ইতোমধ্যেই ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে ভেনেজুয়েলা থেকে কিউবার তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়, যা অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতির পরিপন্থী। ভেনেজুয়েলাও এক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।
হাভানা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক এড অগাস্টিন জানান, বিশ্লেষকদের মতে এটি কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক আঘাতগুলোর একটি। সাধারণ কিউবান নাগরিকদের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
হাভানার বাসিন্দা ইয়েনিয়া লিওন বলেন, “ভোর থেকে বিদ্যুৎ নেই। খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন নতুন করে খাবার কিনতে হচ্ছে। কোনো সমাধান নেই।”
এদিকে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম বলেন, কিউবাকে সহায়তা অব্যাহত রাখার বিকল্প পথ খোঁজা হবে। তিনি সতর্ক করেন, কিউবায় তেল সরবরাহ বন্ধ হলে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে পরিবহন, হাসপাতাল ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার ওপর প্রায় পূর্ণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। গত বছর জাতিসংঘের এক বিশেষ প্রতিবেদক জানান, এই দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা কিউবার মানুষের খাদ্য, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও মানবাধিকারের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
বেলাল হোসেন/









