সিরিয়ার কুর্দি নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র বাহিনী দেশটির অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছেছে। চুক্তি অনুযায়ী, কুর্দি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ধাপে ধাপে সিরিয়ার জাতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত হবে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশজুড়ে নিয়ন্ত্রণ জোরদারে কাজ করছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির উত্তরাঞ্চলে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হলেও, শেষ পর্যন্ত এক সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে।
চুক্তি অনুযায়ী উভয়পক্ষের বাহিনী সামনের সারি থেকে সরে যাবে। সরকারি ইউনিটগুলো হাসাকা ও কামিশলির শহরকেন্দ্রে মোতায়েন হবে। স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী একীভূত করা হবে এবং তিনটি এসডিএফ ব্রিগেড নিয়ে নতুন সামরিক ডিভিশন গঠন করা হবে। কুর্দি নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ধাপে ধাপে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে।
এসডিএফের ভবিষ্যৎ দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার রাজনীতিতে বড় প্রশ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়। একসময় তারা দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করত। ২০২৫ সালের মার্চে কুর্দি কাঠামোকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রাথমিক সমঝোতা হলেও বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায় পরে সরকারি বাহিনী অগ্রসর হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া বিষয়ক দূত টম ব্যারাক এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সাম্প্রতিক এক ফোনালাপে সিরিয়ার পরিস্থিতির উন্নতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আল-শারা ওই আলাপচারিতায় সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আইএসআইএলবিরোধী লড়াইয়ে আগে এসডিএফকে সমর্থন দিলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র আল-শারার সরকারকেই সিরিয়ায় প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছে। পাশাপাশি আল-শারা সরকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা জোরদার করেছে। গত বুধবার তিনি মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বেলাল হোসেন/










