রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ১,৪৪৬তম দিনে উভয় পক্ষের সামরিক হামলা, কূটনৈতিক তৎপরতা ও জ্বালানি খাত ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারির সর্বশেষ পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো।
যুদ্ধ পরিস্থিতি
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, কৃষ্ণসাগরীয় বন্দরনগরী ওডেসায় রাশিয়ার “ব্যাপক” বিমান হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। রাতের হামলায় ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানি নাফটোগাজের স্থাপনায় আঘাত হানে রুশ বাহিনী। পূর্বাঞ্চলীয় পোলতাভা অঞ্চলে এ হামলায় স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোম্পানিটি জানায়, এটি তাদের ওপর রাশিয়ার চালানো ১৯তম হামলা, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানানো হয়নি। খবর আলজাজিরার।
রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের হ্লুশকিভকা এবং সুমি অঞ্চলের সিদোরিভকা বসতি দখল করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ইউক্রেনের হামলার “বৈধ লক্ষ্য”, কারণ এই খাত থেকেই রাশিয়া অস্ত্র উৎপাদনের অর্থ জোগান দেয়। জেলেনস্কির মতে, গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের শহর ও গ্রামে ২,০০০-এর বেশি ড্রোন, ১,২০০টি গাইডেড এয়ারিয়াল বোমা এবং ১১৬টি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
যুদ্ধবিরতিতে আলোচনা
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, শান্তি আলোচনার সবচেয়ে জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো সমাধানের জন্য ইউক্রেন ও রাশিয়ার নেতাদের সরাসরি বৈঠক জরুরি। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানে চুক্তি বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা রাখতে পারেন। সিবিহা জানান, ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার বেশিরভাগ বিষয় ইতোমধ্যে আলোচনায় অগ্রসর হয়েছে, কেবল কয়েকটি কঠিন বিষয় এখনো অমীমাংসিত, যেগুলো নেতৃপর্যায়ে নিষ্পত্তি প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অনুমোদনে প্রস্তুত এবং স্থলবাহিনী মোতায়েন না করেও শান্তিচুক্তিকে সমর্থন দিতে একটি নিরাপত্তা “ব্যাকস্টপ” প্রদান করবে। সিবিহার দাবি অনুযায়ী, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশ শান্তিচুক্তি কার্যকর হলে ইউক্রেনে প্রতিরোধমূলক বাহিনী পাঠাতে প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছে।
রাজনীতি
রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ইউক্রেনীয় বংশোদ্ভূত রুশ নাগরিককে দুবাই থেকে মস্কোতে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভ্লাদিমির আলেক্সেয়েভ ওই হামলা থেকে বেঁচে গেছেন। এ ঘটনায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করতে সহায়তার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান।
এদিকে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘোষণা করেছেন, রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান সরবরাহকারী কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওপর ইউক্রেন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তার অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়া এখনো বিদেশ থেকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করছে।










