২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী বিমানযাত্রী সংখ্যা ১০.২ বিলিয়ন পৌঁছানোর পূর্বাভাস থাকায়, বিমানবন্দরগুলো তাদের অবকাঠামো ও পরিচালন কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে যাত্রী অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করতে ব্যাপক বিনিয়োগ শুরু করেছে।
এয়ারপোর্ট কাউন্সিল ইন্টারন্যাশনাল (এসিআই) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরগুলো AI-এর ব্যবহার বাড়িয়ে বর্ধিত চাহিদা মোকাবিলায় কার্যক্রমকে আরও স্মার্ট করে তুলছে।
AI-এর ব্যবহারে কী কী উন্নতি হচ্ছে
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিমানবন্দরগুলো এখন AI -কে তাদের কাজের ধারা ও প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করছে যা যাত্রী প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, এয়ারসাইড রক্ষণাবেক্ষণ, সাইবার নিরাপত্তা, হারানো লাগেজ ট্র্যাকিং এবং অন-সাইট ও ভার্চুয়াল কাস্টমার সেবা উন্নত করার ক্ষেত্রে কার্যকর।
AI-ভিত্তিক বিশ্লেষণ ব্যবহারে নিরাপত্তা, অভিবাসন ও বোর্ডিং পয়েন্টে সম্ভাব্য জট লাগা আগেভাগে চিহ্নিত করে দেরি কমাতে সাহায্য করছে। এতে করে বিমানবন্দরগুলো প্রতিক্রিয়াশীল জনসম্ভাল থেকে পূর্বাভাসভিত্তিক পরিচালনার দিকে স্থানান্তর করতে পারছে।
AI-চালিত লাগেজ অপটিমাইজেশন টুল এবং বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়াকরণ এখন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর মাধ্যমে যাত্রীরা শারীরিক পাসপোর্ট ছাড়াই অভিবাসন পয়েন্ট অতিক্রম করতে পারবে, যা যাত্রী অভিজ্ঞতা উন্নত করে এবং কার্যক্রমের গতি বাড়ায়।
AI-র দ্রুত অগ্রগতি
“AI ২০১৭ সালে অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তন শুরু করে এবং আমাদের এই পুরো AI দৌড়ে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়। এখন AI, যা আমরা ১৯৪০-এর দশক থেকে শুনে আসছি, তার কার্যক্ষমতা অত্যন্ত বিস্তৃত,” বলেছেন আমাদ মালিক, প্রধান AI কর্মকর্তা, এয়ারপোর্ট AI এক্সচেঞ্জ।
তিনি আরও বলেন, “শুধু গত দুই বছরে AI-এর ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।”
কোথায় কোথায় AI ব্যবহার হচ্ছে
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি AI স্বয়ংক্রিয় চেক-ইন ও বোর্ডিং, লাগেজ পরিচালনা ও ট্র্যাকিং এবং পূর্বাভাসভিত্তিক রক্ষণাবেক্ষণেও সাহায্য করছে। এটি যাত্রী অভিজ্ঞতা বাড়াতে, নিরাপত্তা পরীক্ষা সহজ করতে এবং ব্যক্তিগতকৃত সেবা প্রদানেও কার্যকর।
মাহমুদ আলসেদ্দিকি, প্রাক্তন ভিসি, IT, বাহরাইন এয়ারপোর্ট কোম্পানি বলেন, “AI-ভিত্তিক বিশ্লেষণ বিমানবন্দরগুলোকে প্রতিটি যাত্রীর পছন্দ অনুযায়ী সেবা এবং অভিজ্ঞতা প্রদান করতে সক্ষম করছে, যা চেক-ইন থেকে বোর্ডিং পর্যন্ত যাত্রাকে আরও ব্যক্তিগতকৃত এবং কার্যকর করে তোলে।”
সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ
যদিও AI গত কয়েক বছরে বিস্ফোরক গতিতে উন্নতি করেছে, তবে বিমান শিল্পের গ্রহণযোগ্যতা এখনও সীমিত। মালিক জানান, “AI-এর অগ্রগতি দ্রুত হলেও, বিমান খাতে তার ব্যবহার খুবই নগণ্য। এর প্রধান কারণ হলো পুরনো সিস্টেম এবং বিমান চলাচলের সতর্কমুখী প্রকৃতি।”
তিনি যোগ করেন, “যখন মানুষের জীবন জড়িত থাকে, তখন নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ সবসময় নতুন উদ্ভাবনের গতি ছাড়িয়ে যায়।”
বেলাল হোসেন/










