বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির সুগভীর পরিকল্পনা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় দেরি করা বা কোনো প্রকার কারসাজি জনগণ মেনে নেবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট অডিটোরিয়ামে এক নির্বাচনী সভায় নেতাকর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভা শেষে তিনি কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড এবং পিজি হাসপাতাল এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ করেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “আগে ভোট শেষে পোলিং এজেন্টরা সন্ধ্যার মধ্যেই ফলাফল নিয়ে ফিরত। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে ফল পেতে দুই-তিন দিন সময় লাগবে। এটি কারচুপির একটি সম্ভাব্য লক্ষণ।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, আধুনিক যুগে ফলাফল ঘোষণায় কেন এত সময় লাগবে? এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তিনি।
সরকারের ভেতরে এখনো আওয়ামী লীগের অনুসারী কিছু লোক সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, “তারা চায় নির্বাচন যাতে না হয়, আর হলেও বিএনপি যাতে জিততে না পারে, সেই চেষ্টা তারা করে যাচ্ছে।”
বিদেশে অবস্থানরত একদল ব্যক্তির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যারা দেশের বাইরে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশপ্রেমের বুলি আওড়ান এবং সারাদিন বিএনপি ও আমাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটান, তাদের যদি দেশের জন্য এতই মায়া থাকে তবে দেশে এসে রাজনীতি ও নির্বাচন করুন।”
একইসঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষার অপব্যবহার নিয়েও কথা বলেন তিনি। নির্দিষ্ট একদল প্রচারকারীর নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “তারা বলে মাদ্রাসায় পড়েছে, অথচ সারাদিন মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছে। মাদ্রাসায় তো গীবত ও মিথ্যা বলা নিষেধ করা হয়। এরা মিথ্যা বলে মাদ্রাসার শিক্ষার বদনাম করছে।”
নির্বাচনী প্রচারণায় অন্যের কুৎসা না রটিয়ে নিজের কাজের কথা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমি ঢাকার জন্য মুগদা মেডিকেল ও একটি ডায়াবেটিক হাসপাতালসহ খেলার মাঠ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করেছি। আমার লিফলেটে কাজের বিবরণ দেওয়া আছে।” তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, কেউ তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবে না।
পরিশেষে তিনি সকল স্তরের মানুষকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মানুষ আমাকে ভোট দিক বা না দিক, মানুষ নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছে-এটি দেখতে পাওয়াটাই আমার রাজনীতির বড় সার্থকতা।”