চট্টগ্রাম বন্দরের প্রাণকেন্দ্র নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে বন্দর এলাকা। এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এবং রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বন্দরে টানা আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি ও ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন শ্রমিক-কর্মচারী নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এবং চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এই কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সকল অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে। পরদিন রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) একই সময়ে বন্দরের প্রশাসনিক ও অপারেশনাল উভয় কার্যক্রম বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করবেন শ্রমিকরা। দাবি মানা না হলে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দর অচল করে দেওয়ার মতো আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা বলেন, এনসিটি একটি অত্যন্ত লাভজনক এবং কৌশলগত জাতীয় স্থাপনা। নিজস্ব অর্থায়নে ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনাল পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত দেশীয় সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা ভিনদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় স্বার্থবিরোধী।
শ্রমিক দল নেতা ইব্রাহিম খোকন বলেন, “দেশ যখন নির্বাচনী আমেজে ব্যস্ত, তখন এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তড়িঘড়ি করে ১ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সইয়ের যে প্রস্তুতি নিচ্ছে তা অত্যন্ত সন্দেহজনক। এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি।” নেতারা অভিযোগ করেন, মাত্র ১২ দিনের মধ্যে দরপত্র সংশোধন ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন করার এই ব্যস্ততা গভীর অনৈতিকতার ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে, এনসিটি ইজারা সংক্রান্ত হাইকোর্টের সাম্প্রতিক রায় এবং ১ ফেব্রুয়ারি সম্ভাব্য চুক্তি সইয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই বন্দর ভবন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন সাধারণ শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্দর ভবন ও প্রশাসনিক এলাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ৪০ বছরের এই দীর্ঘমেয়াদি ইজারা চুক্তি দেশের বন্দর উন্নয়ন পরিকল্পনার পরিপন্থী। এই অন্যায্য সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং এর ফলে সৃষ্ট যেকোনো পরিস্থিতির দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।