ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালতের সূত্রে জানা গেছে, পূর্বে নির্ধারিত তারিখে তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল কাদির ভূঞা কোনো প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য আদালত নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন হাদি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতিকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, অপারেশনের পর এভারকেয়ারে পাঠানো হয় এবং ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করা হয়।
৬ জানুয়ারি সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। তবে ডিবি পুলিশের অভিযোগপত্র নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ১৫ জানুয়ারি নারাজির আবেদন করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। আদালত শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করে সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মূল অভিযুক্তরা হলেন: ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল/দাউদ, তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, মো. কবির, মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ভারতে পালাতে সহায়তা করা সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধারসহ গ্রেপ্তার মো. ফয়সাল, মো. আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ স্নাল, মুক্তি মাহমুদ ও জেসমিন আক্তার।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং হাদির রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে বোঝা গেছে, হত্যাটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করার জন্য ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাদির নির্বাচনী প্রচারণায় অনুপ্রবেশ করে।
-এমইউএম










