মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে চাই: টাইম-কে তারেক রহমান

তারেক রহমানকে নিয়ে টাইমের প্রতিবেদনের একাংশের স্ক্রিনশট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী ‘টাইম’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বুধবার টাইমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, দীর্ঘ নির্বাসন পরবর্তী উপলব্ধি এবং দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উঠে এসেছে।

লন্ডনে ১৭ বছরের দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর কোনো সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এটিই তার প্রথম একান্ত সাক্ষাৎকার। গত ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছালে লাখো জনতা তাকে রাজকীয় সংবর্ধনা জানায়। এর মাত্র পাঁচ দিন পর মা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকাতুর তারেক রহমান বলেন, “আমার হৃদয় বড় বেশি দুঃখভারাক্রান্ত। কিন্তু মায়ের কাছ থেকেই আমি শিক্ষা পেয়েছি যে, যখন কোনো দায়িত্ব অর্পিত হয়, তখন তা অবশ্যই পালন করতে হবে।”

সংস্কার ও দায়বদ্ধতা জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের অত্যন্ত শক্তিশালী দায়বদ্ধতা রয়েছে। জনগণ যাতে তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পান, সে জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি যদি আমার পরিকল্পনার ৩০ ভাগও বাস্তবায়ন করতে পারি, আমি নিশ্চিত বাংলাদেশের মানুষ আমাকে সমর্থন করবেন।”

টাইম-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ নির্বাসনে তারেক রহমান প্রয়োজনীয় আত্মোপলব্ধি ও পরিপক্বতা অর্জন করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো দেশে এমন এক ভারসাম্য তৈরি করবে, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করবে।

সমর্থন ও নেতৃত্ব সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে বিএনপির প্রতি জনসমর্থন প্রায় ৭০ শতাংশ, যেখানে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ১৯ শতাংশ। পারিবারিক উত্তরাধিকারের মাধ্যমে নেতৃত্বে আসা প্রসঙ্গে বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে তারেক রহমান বলেন, “আমি আমার বাবা-মায়ের সন্তান হওয়ার কারণে এখানে আসিনি। আমার দলের সমর্থকদের জন্যই আজ আমি এখানে পৌঁছেছি।”

অতীতের অভিযোগ ও শারীরিক অবস্থা ২০০১-২০০৬ মেয়াদে দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিগত সরকারের আমলে দেওয়া দণ্ড প্রসঙ্গে তারেক রহমান সাফ জানিয়ে দেন, “তারা কোনো কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি।” উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে থাকা দণ্ডগুলো ইতিমধ্যে বাতিল হয়েছে।

কারাগারে নির্যাতনের ফলে মেরুদণ্ডের স্থায়ী সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “খুব বেশি শীত পড়লে পিঠে ব্যথা বেড়ে যায়। তবে আমি একে জনগণের প্রতি আমার দায়বদ্ধতার স্মারক হিসেবে দেখি। আমি আমার সেরাটা দেব, যাতে ভবিষ্যতে আর কাউকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে না হয়।”

প্রতিবেদনটিতে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং তার হাত ধরে বিভক্ত জাতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনার কথা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে।

লামিয়া আক্তার