মুক্তি পেলেন সেই ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম

বাগেরহাটে স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর চার দিন পর মানবিক বিবেচনায় যশোর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম। বুধবার কারাগারে জামিনের আদেশ আসার পরে দুইটার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সিনিয়র জেল সুপার (অ. দা.) আসিফ উদ্দীন। এর আগে, গত সোমবার হাইকোর্টের একটি ডিভিশন ফৌজদারি বেঞ্চ তার ৬ মাসের জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। তিনি ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি।

গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাটের বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং পাশে ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, বিষণ্নতা থেকে সন্তানকে হত্যার পর স্বর্ণালী আত্মহত্যা করে। গত ২৪ জানুয়ারি প্যারোল না পাওয়ায় সাদ্দামের মৃত স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলগেটের ভেতরে মাত্র ৫ মিনিটের জন্য সাদ্দামকে তার স্ত্রী স্বর্ণালী ও শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।

সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে জেলগেটে মরদেহ দেখানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে সাদ্দামের মুক্তি নিয়ে যশোর কারা কর্তৃপক্ষের লুকোচুরি লক্ষ্য করা গেছে। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারাফটকে যশোরের গণমাধ্যম কর্মীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কারাকর্তৃপক্ষ গণমাধ্যম কর্মীদের মুক্তির বিষয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ জেলার গণমাধ্যম কর্মীরাও। কারাফটকের বাইরে থেকে বারবার কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা সাড়া দেয়নি। সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কারাগারের অতিরিক্ত দায়িত্বরত কর্মকর্তা আসিফ উদ্দীন জানান, দুপুরে সাদ্দামের মুক্তি হয়ে গেছে। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। লুকোচুরি বিষয়ে তিনি জেলারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। কয়েক দফা জেলার আবিদ আহম্মেদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সাদ্দামের ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। সন্ধ্যায় বাড়ি পৌঁছানোর পর তার স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত করেছেন। সেখানে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। এসময় শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

-সাইমুন