শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে জামায়াত–বিএনপির সংঘর্ষ

শেরপুর-৩ ঝিনাইগাতীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে জামায়াত–বিএনপির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।

শেরপুর-৩ ঝিনাইগাতী–শ্রীবরদী আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। আহতদের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেল তিনটার দিকে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বিকেল তিনটায় ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে শেরপুর-৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ‘নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠান’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম রাসেল, ঝিনাইগাতী থানার ওসি নাজমুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মঞ্চে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই চেয়ারে বসে থাকলেও বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল অনুষ্ঠানস্থলে না পৌঁছানোয় বিএনপির আগত নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। ফলে চেয়ারে সবাই বসতে পারেননি। এ সময় চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে অনুষ্ঠানস্থল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের মঞ্চ ও আশপাশের এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। নতুন করে আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি পরস্পরকে দোষারোপ করেছে। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা এ মুহূর্তে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।

-জাফর আহাম্মদ,শেরপুর