এসডিএফের বিরুদ্ধে অভিযানের পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আল-শারার প্রশংসা করলেন ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর বিরুদ্ধে সিরীয় সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে এসডিএফকে সমর্থন দিয়ে আসছিল ওয়াশিংটন।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, সিরিয়ায় পরিস্থিতি “খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে” এবং এ নিয়ে তিনি “খুবই সন্তুষ্ট”। ফোনালাপের পরই আল-শারা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে মস্কোর উদ্দেশে রওনা হন।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন,
“সিরিয়ার অত্যন্ত সম্মানিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার একটি দারুণ কথোপকথন হয়েছে। সিরিয়া ও পুরো অঞ্চল নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। সবকিছু খুব ভালোভাবে কাজ করছে।”

সিরিয়ার প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে জানায়, আল-শারা ট্রাম্পকে সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ ও নাগরিক শান্তি বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইএসআইএল (আইএস)সহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর পুনরুত্থান ঠেকাতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন আল-শারা।

পরে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সিরিয়ার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে “একটি বড় সমস্যার সমাধান” করেছেন, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

এদিকে এসডিএফ জানিয়েছে, গত ১৮ জানুয়ারি তারা উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার রাক্কা ও দেইর আজ-জোর শহর থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সিরীয় সেনাবাহিনীর অভিযানের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ায় এসডিএফকে সমর্থন দিয়ে এলেও, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম ব্যারাক সম্প্রতি বলেন, কুর্দি-নেতৃত্বাধীন এই বাহিনীর “প্রধান আইএসবিরোধী শক্তি” হিসেবে ভূমিকা এখন অনেকটাই শেষ হয়ে এসেছে। তার মতে, বর্তমানে সিরিয়ার সরকারই দেশের নিরাপত্তা দায়িত্ব নিচ্ছে।

ব্যারাক আরও জানান, সিরিয়ার পরিস্থিতি “মৌলিকভাবে পরিবর্তিত” হয়েছে এবং ২০২৫ সালের শেষ দিকে দামেস্ক আইএসবিরোধী গ্লোবাল কোয়ালিশনে যোগ দিয়ে এর ৯০তম সদস্যে পরিণত হয়েছে।

ওয়াশিংটনের এই অবস্থান পরিবর্তন শুরুতে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে প্রশ্নের জন্ম দেয়। সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম সিরিয়ার সাম্প্রতিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের আহ্বান জানালেও পরে ট্রাম্পের প্রশংসা করে বলেন, তিনি সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছেন।

এদিকে রাশিয়ার ক্রেমলিন জানিয়েছে, বুধবার মস্কোতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সুত্র:আল জাজিরা

বেলাল হোসেন/