নরসিংদীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ

নরসিংদীতে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরো একজনসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া ‘সন্ত্রাসী’ হারুন এখনো পলাতক রয়েছেন।মঙ্গলবার এ ঘটনায় আহত সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদ নরসিংদীর মাধবদী থানায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো পাঁচজনের নামে একটি মামলা করে।

মামলার আসামিরা হলেন মো. আলাল সরকার (২৬), মো. বনি মিয়া (২৫), মো. হারুন মিয়া (৫২) মোহাম্মদ আলী (২৪), রিয়াসাদ আলী (২০), শাকিব (২২), মো. রোমান মিয়া (২৮), মো. মামুন (৩০) এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো পাঁচজন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রোগ্রাম শেষে সাংবাদিকরা বাসে উঠার জন্য তাদের পরিবার নিয়ে পার্কিং প্লেসে আসেন। তখন ১২টি বাসের আটটি বাস ২০০ টাকা করে পার্কিং ফি দিয়ে চলে গেলেও চারটি বাস অপেক্ষমাণ ছিল। এ সময় একটি বাসের ড্রাইভার ও হেলপারের সঙ্গে ‘আলী গাড়ি পার্কিং’-এর মালিক বিবাদী মো. হারুন মিয়া (৫২) ও তার ছেলে ৪ ও ৫ নং বিবাদীর সঙ্গে নিয়ে ৬০০ টাকা পার্কিং চার্জ দাবি করেন।
এ সময় সাংবাদিক মনির হোসেন তাদের কাছে পার্কিং চার্জ আদায়ের রসিদ চাইলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। তখন অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে এলে তাদের ওপর আসামিরা ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করেন।
এজাহারে আরো বলা হয়, হামলার এক পর্যায়ে আসামি মো. আলাল সরকারের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে বাদীর কপালের উপরিভাগে মাথায় আঘাত করেন। একই আসামি সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শাহেদ ও সিনিয়র রিপোর্টার মহসিন কবিরের ডান কানে কোপ দেন।

২ নং আসামি মো. রনি মিয়া ওরফে রুবেল (২৫) তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার সাখাওয়াত কাউছারকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। ৩ নং আসামি মো. হারুন মিয়া (৫২) তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ক্র্যাব স্টাফ লাল মিয়াকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। ৪ নং আসামি মোহাম্মদ আলী (২৪) এশিয়ান টিভির ক্রাইম চিফ সোহেল নয়নের নাকে-মুখে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ ছাড়া মহসিন কবিরের সঙ্গে থাকা চার হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যান। এক পর্যায়ে তারা হাতে থাকা লাঠি দিয়ে সাংবাদিকদের ভাড়াকৃত বাসেও ভাঙচুর চালান।
হামলায় অন্তত ১২ জন সাংবাদিক আহত হন। তাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর।সূত্র জানায়, আসামিরা বাসের চাবি কেড়ে নেন এবং বাসে আগুন দিয়ে সাংবাদিকদের পুড়িয়ে মারার হুমকি প্রদান করেন। পরবর্তীতে মাধবদী থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ১ ও ২ নং আসামিকে আটক করে তাদের হেফাজতে নেয়। অন্য আসামিরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এজাহারভুক্ত আসামিরা সবাই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তারা সড়ক দখল করে চাঁদাবাজির পাশাপাশি এলাকায় মাদক কারবারি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত।

জানতে চাইলে নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িত দুজনকে প্রথমেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরো একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।

এ ঘটনায় জড়িতদের অতি সত্বর গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ( ক্র্যাব) কার্যনির্বাহী কমিটি। এ ছাড়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)সহ ল রিপোর্টার্স ফোরাম, র‍্যাক, পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরামসহ অন্যান্য আরো অনেক সংগঠন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল বলেন, ‘ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আশা করছি, পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবে।’

এ ঘটনায় এক যৌথ বিবৃতিতে কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এ নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা পরিকল্পিত এবং চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে হামলার ঘটনা প্রমাণ করে, সন্ত্রাসীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ডিআরইউ সারা দেশের সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।

-সাইমুন