বড় বিমান ওঠানামার সক্ষমতা বাড়বে যশোর বিমানবন্দরে : বেবিচক চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেছেন, ‘যশোর বিমানবন্দরে বড় আকারের উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা বাড়ছে। রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ভবিষ্যতে এখানে আরও বড় বিমান নিরাপদভাবে চলাচল করতে পারবে।’

আজ মঙ্গলবার যশোর বিমানবন্দরে ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ ২০২৬’ শীর্ষক একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেবিচকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আইসিএও স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড রিকমেন্ডেড প্র্যাক্টিসেস (সার্পস) জেস ন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি প্রোগ্রামের (এনসিএএসপি) নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি বিমানবন্দরে প্রতি ২ বছরের মধ্যে একবার ‘এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি এক্সারসাইজ’ আয়োজন করা আবশ্যক। তারই ধারাবাহিকতায় হাইজ্যাক, বোমা হামলাসহ নানাবিধ ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা যাচাই এবং অংশীজনদের প্রস্তুতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়।
বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, যশোর বিমানবন্দরের নতুন বহির্গমন টার্মিনাল ভবন ও নতুন এপ্রোনের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রানওয়ের ধারণক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং বড় আকারের উড়োজাহাজ ওঠানামার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত নিরাপত্তা মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের মহড়া সম্ভাব্য দুর্বলতা চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করে।’

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘চলতি বছর অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও এই মহড়া কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

নিরাপত্তা মহড়ার দৃশ্যপটে দেখা যায়, বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট যশোরের উদ্দেশে যাত্রা করে। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই যশোর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপকের কাছে একটি বেনামি ফোনকল আসে, যেখানে বিমানে বোমা থাকার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি দ্রুত কন্ট্রোল টাওয়ার ও এভিয়েশন সিকিউরিটি ইনচার্জকে জানানো হয়।

পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক ফুল এয়ারপোর্ট ইমার্জেন্সি ঘোষণা করেন এবং ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার সক্রিয় করা হয়। বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স ও মেডিকেল ইউনিটসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে অভিযানে অংশ নেয়।

এই মহড়ায় অংশগ্রহণ করে বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএন, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টিমসহ বিভিন্ন সংস্থা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমান। মহড়ার পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল।

ইমরান/ সুশান্ত