বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিনি কারও প্রভুত্ব স্বীকার করেন না, একমাত্র আল্লাহর প্রভুত্বেই বিশ্বাস করেন। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে বলেন, দুর্নীতিবাজদের জন্য এ দেশে কোনো জায়গা থাকবে না এবং সকল সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অবিচার সংঘটিত হয়েছে সাতক্ষীরায়, যা অন্য কোনো জেলায় দেখা যায়নি। বুলডোজার দিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, তারা কী অপরাধ করেছিল।
সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালে সাতক্ষীরায় সফরের সময় তিনি এলাকাবাসীর দুর্দশার চিত্র প্রত্যক্ষ করেন। তিনি জানান, সে সময় তিনি শহীদ পরিবারের খোঁজ নিতে এবং নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছিলেন। তিনি দাবি করেন, যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রেখে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, এই বিচার দুনিয়াতে না হলেও আখিরাতে অবশ্যই হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়েছে এবং জেলার সঙ্গে সৎ মায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে। তার মতে, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই এই অঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
জামায়াত আমির বলেন, তার দল দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত রাজনৈতিক দলগুলোর একটি। বহু নেতা-কর্মী হত্যা, গুম ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন এবং দলীয় নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিলসহ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে দলটি।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরার মানুষের বড় অপরাধ ছিল ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। তার ভাষায়, যারা সত্যের পক্ষে থাকে, আল্লাহ শেষ পর্যন্ত তাদের সম্মান দেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর দল শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না।
দলীয় কর্মীদের কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি বা অন্যায় কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার সুযোগ নেই। যারা অপরাধ করেছে, কেবল তাদের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে বিএনপিসহ বিভিন্ন বিরোধী দল, সাংবাদিক, আলেম-ওলামাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার মতে, অনেক সময় নির্যাতিতরাই পরে নির্যাতক হয়ে ওঠে, তাই ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা জরুরি।
সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমর্থন চান তিনি। তার ভাষায়, মদিনা সনদের আদলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য।
ডা. শফিকুর রহমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিতদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো এবং দায়িত্বশীলদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটের অর্থ দুটি পথ—স্বাধীনতা ও পরাধীনতা। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি দাবি করেন, দেশের তরুণ সমাজ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং সাতক্ষীরার চারটি আসনে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান।
মোঃ আব্দুস সালাম, সাতক্ষীরা/










