দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দলীয় আমীরের
নড়াইলে নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগকারীদের বিচারের দাবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই চলছে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। এরই ধারবাহিকতায় জনসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, দলীয় প্রতীক নিয়ে শোভাযাত্রা ও স্লোগানে স্লোগানে নিজ এলাকায় সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা। দ্বারে দ্বারে ছুটছেন ভোটারদের। সবকিছু মিলয়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। তবে নড়াইল-১ আসনে সোমবার রাতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল আজিজের নির্বাচনী প্রচারণা অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে আসনটিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অবিলম্বে অগ্নিসংযোগকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের ২৫৯টি আসনে প্রার্থী দেয়া হয়েছে। সবগুলোতেই জমজমাট প্রচারণা চালাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। প্রতিদিনই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। প্রচারণার মূল টার্গেটে রয়েছে সাধারণ ভোটাররা। এসব আসনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রত্যেক ভোটারের কাছে ‘ইসলামের পক্ষে একক মার্কা’ হিসেবে হাতপাখাকে উপস্থাপন করছেন। এলাকাভেদে মানুষের সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন ও জাতীয় জীবনে মানুষের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন প্রার্থীরা। সর্বত্রই প্রচারণায় জনপ্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
বরিশাল-০১ আসনের প্রার্থী রাসেল সরদার মেহেদী আজ গৌরনদী উপজেলার বাড়পাইকা, ধোপের পাড়, গৌরনদী চাদশী, বড় কসবা, মোল্লারহাট বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন। এছাড়াও মোল্লারহাট বাজারে একটি পথসভা করেন তিনি।
বরিশাল-০২ আসনের প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মাদ নেছার উদ্দীন বামরাইল এ শিকারপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এবং বেশকিছু মহিলা উঠান বৈঠকে অংশ নেন।
বরিশাল-০৩ আসনের প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বাবুগঞ্জের রহমতপুর ও মীরগঞ্জ বাজার এবং মুলাদী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। এছাড়াও খেজুরতলা এলাকায় একাধিক মহিলা উঠান বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
বরিশাল-০৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে গণসংযোগ করেন। এছাড়াও গোবিন্দপুর বাজারে পথসভা করেন।
বরিশাল-০৫ ও ০৬ আসনের প্রার্থী মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই নগরীর সাগরদী বাজার রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড এ গণসংযোগ করেন। এছাড়াও রুপাতলী হাউজিং উঠান বৈঠক ও একাধিক মহিলা উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও বাজেরগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে একটি পথসভায় বক্ত দেন।
ঝালকাঠি-০১ আসনের প্রার্থী মাওঃ ইব্রাহিম আল হাদী রাজাপুর সদর ইউনিয়ন, আমুয়া বন্দর বাজার এবং কয়েকটি গ্রামে গণসংযোগ করেন।
ঝালকাঠি-০২ আসনের প্রার্থী ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী নলছিটি পৌর শহরের মডেল মসজিদে চত্বর থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে এবং চায়না মাঠে এসে শেষ করেন। এছাড়াও পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন এবং রাতে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৯নং শেখেরহাট ইউনিয়নে কয়েকটি উঠান বৈঠক করেন।
বরগুনা-০১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ৪নং ইউনিয়ন কোটবাড়িয়া বাজার, লতা বাড়িয়া বাজার ও দোওতলা বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন। এছাড়া ১ নং ফুলঝুরি বাজারে পথসভা ও গণসংযোগ করেন তিনি।
বরগুনা-০২ আসন প্রার্থী মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী কাকচিরা বাজার ও নাচনা পাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এছাড়াও কাকচিড়া বাজারে পথসভা ও গণসংযোগ করেন তিনি।
পটুয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবুল হাসান বুখারী মৌকরণ বাজারে গণসংযোগ, শ্রীরামপুর বাজারে পথসভা, বাদ মাগরিব লাউকাঠী বাজারে পথসভা এবং মৌকরণ ও লাউকাঠি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে গনসংযোগ করেন।
পটুয়াখালী-০২ আসনের প্রার্থী মুফতি আব্দুল মালেক আনোয়ারী বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন ও বাউফল পৌরসভায়ে উঠান বৈঠক ও গনসংযোগ করেন।
পটুয়াখালী-০৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবু বকর দশমিনা উপজেলার উপজেলা শহরে এবং বাসবাড়িয়া ইউনিয়নে পথসভা, অফিস উদ্বোধন এবং গনসংযোগ করেন।
পটুয়াখালী-০৪ আসনের প্রার্থী আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান মহিপুর, আলিপুরা, এবং কুয়াকাটা পৌরসভায় গণসংযোগ,পথসভা এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাক্ষাৎ করেন।
ভোলা-০১ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমান বিন মোস্তফা ভোলা সদর হাটখোলা মসজিদ চত্বর থেকে গণসংযোগ শুরু করেন। তিনি ভোলা সদর প্রদক্ষিণ করে নতুন বাজার এলাকায় গিয়ে একটি পথসভায় অংশ নেন। এছাড়াও বেশকিছু মহিলা উঠান বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
ভোলা-০৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা মোসলেহ উদ্দীন আজ লালমোহন পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও বেশকিছু উঠান বৈঠকে অংশ নেন।
ভোলা-০৪ আসনের প্রার্থী প্রফেসর এ. এম. এম. কামাল উদ্দিন মনপুরার নয়া বাজার, জনতা বাজার, পচাঁ কুরালিয়া মাছ ঘাট, নূরউদ্দিন মার্কেট, ডালি মার্কেট, সিরাজগন্জ বাজার, তালতলা বাজার, বাংলা বাজার, এবং কুরালিয়া বাজার গণসংযোগ করেন।
পিরোজপুর-০২ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ কাউখালি উপজেলার পূর্ব বেতকা বাজার, বগা ও কেউন্দিয়া এলাকায় গণসংযোগ ও একাধিক উঠান বৈঠকে অংশ নেন।
পিরোজপুর-০৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মো. রুস্তম আলী ফরাজি মঠবাড়িয়া পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ড, মিরুখালী বাজার, মঠবাড়িয়া বাজার ও টিটিকাকা ইউনিয়নে গণসংযোগ ও বেশকিছু উঠান বৈঠকে অংশ নেন।
এছাড়াও ঢাকা-৮ আসনে মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, ঢাকা-১২ আসনে মাওলানা মাহমুদুল হাসান মোমতাজী এবং ঢাকা-১৬ আসনে প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম, রাজশাহী-২ আসনে মো. ফজলুল করীম এবং বগুড়া-৬ আসনে আ ন ম মামুনুর রশিদ, খুলনা-২ আসনে মুফতি আমানুল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে অ্যাডভোকেট আব্দুস শুক্কর (মাহমুদ) এবং সিলেট-১ আসনে হাফেজ মাও. মাহমুদুল হাসানসহ সব প্রার্থীই তাদের নির্বাচনী প্রাচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, দেশের ২৫৯ টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সবগুলো আসনেই জমজমাট প্রচারণা চালাচ্ছে দলের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। প্রতিদিনই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এসব আসনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রত্যেক ভোটারের কাছে ‘ইসলামের পক্ষে একক মার্কা’ হিসেবে হাতপাখাকে উপস্থাপন করছেন। এলাকাভেদে মানুষের সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি উপস্থাপন ও জাতীয় জীবনে মানুষের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন প্রার্থীরা। আশা করছি ভোটাররা এবার ইসলামের পক্ষে ভোট দিয়ে শরীয়া আইনে দেশ চালানো সুযোগ দিবেন।
সোমবার দুপুরে শেরপুর-৩ শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আবু তালেব মুহাম্মাদ সাইফুদ্দিনের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন দলটির আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এখন যারা বিভিন্ন জোটবদ্ধ হয়ে ভোট চাইছে তারা অতিতেও দেশ পরিচালনা করেছে। একই দল বা জোট আগের আইনেই দেশ পরিচালনা করে নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ৫৪ বছরের প্রমানিত ব্যর্থ দল ও নীতির কাছে নতুন করে প্রত্যাশা করার কিছু নাই। তাদের কাছে সুশাসন, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আশা করা বোকামী হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের সুযোগ এসেছে। নতুন নীতি, নয়া বন্দোবস্ত ও নতুন নেতৃত্বে দেশ গড়তে হবে। তাই বলবো, হাতপাখা প্রতিকে ভোট দিন। নীতি হিসেবে হাজার বছরের প্রমানিত ও সফল ইসলামের আলোকে সবাই মিলে দেশ গড়ে তুলবো। দুর্নীতি দুর করবো, সন্ত্রাস দুর করবো। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাআল্লাহ।
এদিকে নড়াইল-১ আসনে হাতপাখার নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার দিকে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। রাতে নড়াইল-১ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল আজিজের নির্বাচনী প্রচারণা অফিস নড়াইল সদর উপজেলার ৭ নং বিছালি ইউনিয়নে গভীর রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে কার্যালয়ের সকল আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। নির্বাচনী আচরন বিধি, সংস্কৃতির জন্য এই ঘটনা একটি বড় আঘাত বলে মনে করছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের সঙ্গে সোমবার ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সাথে এর কোন সম্পর্ক আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখতে হবে। পরাজিত শক্তির কোন অপচেষ্টাও হতে পারে। সেজন্য প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই বিষয়ে প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের প্রতি লক্ষ রাখবে। তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরন বিধি, সংস্কৃতির জন্য এই ঘটনা একটি বড় আঘাত। আমি প্রশাসনকে বলবো, অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।