আইনি লড়াইয়ে ভয় পেয়ে কণ্ঠ হারালেন হার্ড

হলিউড অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ড সাবেক স্বামী জনি ডেপের সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর খুব কমই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তবে এবার তিনি প্রামাণ্যচিত্র ‘সাইলেন্সড’-এ নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। এটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে।

২০১৬ সালে হার্ড ও ডেপের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। হার্ড পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ তোলেন। পরবর্তীতে দুজনের মধ্যে একাধিক মামলা-মোকদ্দমা চলে এবং শেষ পর্যন্ত মানহানির মামলায় আদালত হার্ডের বিরুদ্ধে রায় দেন। পরে উভয় পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছান। বর্তমানে হার্ড তিন সন্তানের মা এবং প্রামাণ্যচিত্রটির মাধ্যমে তিনি সেই সব নারীর কণ্ঠ তুলে ধরতে চেয়েছেন যারা ক্ষমতাশালী ব্যবস্থার কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন।

প্রামাণ্যচিত্রে হার্ড বলেন, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর তিনি যেন নিজের কণ্ঠই হারিয়ে ফেলেছেন। তার ভাষ্য, “এটা আমার গল্প বলার বিষয় নয়। আমি আমার কথা বলার ক্ষমতাই হারিয়ে ফেলেছি। আমি আর নিজের গল্প বলতে চাই না। সত্যি বলতে, আমি আর কণ্ঠ ব্যবহার করতে চাই না। এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা।” এই প্রামাণ্যচিত্র মূলত দেখায় কীভাবে মানহানির মামলাকে ব্যবহার করে নির্যাতনের শিকার নারীদের কণ্ঠ রোধ করা হয়। পরিচালক  সঙ্গে আলাপে হার্ড নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

জনি ডেপের করা একটি মামলার সময় তার পাশে থাকা মানবাধিকার আইনজীবী জেনিফার রবিনসন ও প্রামাণ্যচিত্রে উপস্থিত ছিলেন। হার্ড স্মরণ করেন, ব্রিটিশ একটি পত্রিকার বিরুদ্ধে দেওয়া মামলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। সে সময় সংবাদমাধ্যমে কথা বলার বিষয়টি আসলেও তিনি বুঝতে পারেননি যে, একজন নারী হিসেবে নিজের কণ্ঠ ব্যবহার করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

প্রামাণ্যচিত্রে আরও দেখানো হয়েছে কলম্বিয়ার এক সাংবাদিক এবং অস্ট্রেলিয়ার এক রাজনৈতিক কর্মীর লড়াইয়ের গল্প, যেখানে ক্ষমতাশালী মহল নারীদের কণ্ঠ দমিয়ে দেয়। হার্ড বলেন, অন্য নারীদের সাহসী লড়াই তাকে শক্তি জোগায়। তিনি বলেন, “যারা ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তারা আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমার মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি বিশ্বাস করতে চাই, ভবিষ্যৎ আরও ভালো হতে পারে।

বিথী রানী মণ্ডল/