উত্তর গাজার বসতি, কৃষিজমি মুছে ফেলছে ইসরায়েল

ফিলিস্তিনের গাজার উত্তরে বিশাল এলাকাজুড়ে থাকা একটি জনপদ কৃষিজমিসহ মুছে ফেলছে ইসরায়েল। এই এলাকায় একটি বড় জনপদ ছিল। এখন সেগুলোর কাঠামো পাল্টে ফেলা হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে কৃষিজমি অধ্যুষিত এলাকাও। আলজাজিরার ডিজিটাল তদন্তে বিষয়টি ধরা পড়েছে। তদন্ত দল স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে এই ভয়ানক তথ্য পেয়েছে। চলমান যুদ্ধবিরতির আড়ালে বেইত হানুন শহরকে ধ্বংস করে ভূমি নিয়ন্ত্রণের এই দখলবাজি চলছে।

তদন্তে বলা হচ্ছে, গত বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েলের সেনাবাহিনী উত্তর গাজা উপত্যকার বেইত হানুন শহরের ঘরবাড়ি ধ্বংস করার কাজ চলমান রেখেছে। তদন্ত দল ‘সানাদ’ স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে দখলদারির প্রমাণ পেয়েছে।

সানাদ দেখেছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রায় চার লাখ আট হাজার বর্গমিটার জমি পরিষ্কার করতে বুলডোজার ব্যবহার করেছে। এই এলাকার মধ্যে কমপক্ষে ৩২৯টি বাড়ি এবং কৃষিক্ষেত্রের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, দুই বছরের যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনসহ বেইত হানুনের কিছু ভবনও সংশ্লিষ্ট এলাকায় রয়েছে। এলাকাটিতে কিছু ভবন অক্ষত থাকলেও গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সেগুলো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে আগের কৃষিজমি পাল্টে নতুন ভূমি স্থাপন করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ অপসারণের কাজ সরাসরি বেইত হানুনের প্রান্তে শুরু হয়েছিল, যা শহরটিকে উত্তর সীমান্তে অবস্থিত ইসরায়েলি বসতি থেকে পৃথক করে ফেলেছে।  ইসরায়েলের অতিডানপন্থি নেতারা গাজায় ইতোমধ্যে বসতি স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছে। তারা বেইত হানুন এবং বেইত লাহিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, আটশরও বেশি ইহুদি পরিবার ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব’ সেখানে চলে যেতে ইচ্ছুক।

গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন হাসপাতালে তিনজনের মৃতদেহ পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া একজনও রয়েছেন। আরও ২০ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭১ হাজার ৬৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। ৯২ দিনের যুদ্ধবিরতিতে গাজায় হামলা চালিয়ে ১০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে ইসরায়েল।

রাফা ক্রসিং সীমিত আকারে খুলবে ইসরায়েল
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, রাফা ক্রসিং সীমিত আকারে পুনরায় খোলার বিষয়ে ইসরায়েল সম্মত হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্পের দূতরা ক্রসিংটি পুনরায় চালু করার জন্য অনুরোধ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই ক্রসিং খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের ঘোষণায় সন্দেহ পোষণ করেছেন।

সাংবাদিক ও মানবিককর্মীরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে
মিডলইস্ট আই জানায়, প্রতিনিধি ও মানবিককর্মী হিসেবে গাজা বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ স্থান বলে রোববার জানিয়েছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি। তিনি বলেন, গাজার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ২৩০ জনেরও বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ৩৮২ জন মানবিককর্মী নিহত হয়েছেন।

ফিলিস্তিনের উপকার করা শান্তি পর্ষদের লক্ষ্য নয়
অনুসন্ধানী সাংবাদিক, লেখক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা অ্যান্টনি লোয়েনস্টাইন বলেছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করার কোনো বাস্তব লক্ষ্য ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের নেই। তিনি বলেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ইসরায়েল লাখ লাখ ফিলিস্তিনির হাড়ের ওপর পর্যটনের জন্য উঁচু উঁচু ভবন নির্মাণ করতে চাইছে।’

আলজাজিরার সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ল
আলজাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্কের সম্প্রচার এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ৯০ দিনের জন্য বাড়িয়েছে দখলদার ইসরায়েল। রোববার এক আদেশে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে একাধিক সম্প্রচার ও ইন্টারনেট কোম্পানি এবং ইউটিউব চ্যানেলকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নেটওয়ার্ক পরিষেবা দিতে নিষেধ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে আলজাজিরার কার্যক্রম বন্ধ হয়।

-সাইমুন