স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর তিন দিন পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মানবিক বিবেচনায় তাকে ৬ মাসের জামিন দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গার গ্রামের বাড়িতে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার পাশেই নিথর দেহে পড়ে ছিল তার ৯ মাসের শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ।
এ ঘটনায় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে শেষবারের মতো সাদ্দামকে তার স্ত্রী-সন্তানের মুখ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।
মিনিট পাঁচেক সময় দেওয়া হয় সাদ্দামকে।
অন্যদিকে স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তির অনুমতি না পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হলে রোববার (২৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে যশোর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর কোনো আবেদন করা হয়নি। সাদ্দামের পারিবারের মৌখিক অভিপ্রায় অনুযায়ী যশোর জেলগেটে তাকে স্ত্রী ও সন্তানের লাশ দেখানোর সিদ্ধান্ত হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মানবিক দিক বিবেচনা করে এ বিষয়ে যশোর জেলা প্রশাসন ও যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় যশোর জেলা প্রশাসক বা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছে মর্মে প্রকাশিত সংবাদটি সঠিক নয় বলেও জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের জামিননামা এখনো জেলগেটে পৌঁছায়নি। ফলে আজ মুক্তি মিলছে না তার।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কারাগার সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ।
জেলার আবিদ বলেন, শুনেছি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের মানবিক কারণে ৬ মাসের জামিন হয়েছে। কিন্তু জামিনের চিঠি এখনো হাতে পাইনি। তাই তিনি এখনই মুক্তি পাচ্ছেন না। চিঠি পাওয়ার পর পরবতী কার্যক্রম চলবে।
গত বছরের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তারের পর থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন সাদ্দাম।
-মামুন










