পাহাড়ের গহীন অরণ্য আর দুর্গম সীমান্ত অঞ্চল—যেখানে আধুনিক নাগরিক সুবিধার ছোঁয়া পৌঁছানো এখনো চ্যালেঞ্জ, সেখানেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন ১০ দলীয় ঐক্য ও এনসিপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এ এস এম সুজা উদ্দিন। তাঁর এই ভিন্নধর্মী নির্বাচনী প্রচারণার নাম দেওয়া হয়েছে ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও রোয়াংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী এবং অতি দুর্গম এলাকাগুলোতে এখন এনসিপির প্রতীক ‘শাপলা কলি’র জোয়ার। প্রচারণার অংশ হিসেবে শাহ সুজা চষে বেড়াচ্ছেন নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, বাইশারী, ঘুমধুম, দোছড়ি, সোনাইছড়ি, ফুলতলি ও তুলাতলি ইউনিয়ন। এমনকি ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে রেমাক্রীর প্রত্যন্ত জনপদেও পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি।
কেন এই প্রচারণার নাম ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’? এ প্রশ্নের উত্তরে শাহ সুজা বলেন, “এখানকার মানুষ শুধু মোবাইল বা ইন্টারনেটের নেটওয়ার্কের বাইরে নয়, তারা দীর্ঘকাল ধরে রাষ্ট্রের মৌলিক নাগরিক সেবার নেটওয়ার্ক থেকেও বিচ্ছিন্ন। আমি নির্বাচিত হলে এই অবহেলিত জনপদকে শুধু ডিজিটাল নেটওয়ার্কেই আনব না, বরং তাদের প্রতিটি ন্যায্য অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করব।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, গহীন পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালি ভোটারদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, কষ্ট ও প্রত্যাশার কথাগুলো সরাসরি শুনছেন এই প্রার্থী। সরাসরি সংযোগের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে পাহাড়ি জনপদে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, গত কয়েক দশকে কোনো প্রার্থীকে এভাবে সরাসরি তাদের কুঁড়েঘরে এসে অভাব-অভিযোগ শুনতে দেখা যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘নেটওয়ার্কের বাইরে’ নাম দিয়ে এই প্রচারণা একদিকে যেমন এলাকার অবহেলার চিত্র ফুটিয়ে তুলছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আস্থা ও প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে। এই ভিন্নধর্মী কৌশলের মাধ্যমে পাহাড়ি জনপদে এনসিপি প্রার্থী শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।