ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি মিশন প্রধানদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই বৈঠকটি গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়নি। ইসি আগেই জানিয়েছিল, এই ব্রিফিংয়ে কোনো সাংবাদিকের প্রবেশাধিকার থাকবে না।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে এই রুদ্ধদ্বার ব্রিফিং শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক মিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ব্রিফিং অনুষ্ঠানটি গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত না রাখা হলেও আলোচনার বিষয়বস্তু গোপন রাখা হচ্ছে না। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ফিরে সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বিস্তারিত ব্রিফ করবেন। মূলত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে কমিশন কী কী প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তাই কূটনীতিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ইসি সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে এখন পর্যন্ত ৩৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিশাল একটি দলসহ প্রায় ৫০০ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকের আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভিসা ফি মওকুফ এবং তাদের চলাচলের সময় যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশেষ পত্র জারি করেছে। তবে বিদেশি সামরিক বা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ঐতিহাসিক এই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে গত ২২ জানুয়ারি থেকে।