ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে বিভিন্ন দল টাকার দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে টাকার খেলা চলছে। নির্বাচনের ব্যয় কমাতে অনিয়ম প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এক বা একাধিক নির্বাচনি আসনের জন্য নির্বাচনি ব্যয় মনিটরিং কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু তা আমলে নেওয়া হয়নি। এর ফলে অতীতের ব্যবস্থাই যেন বহাল রয়েছে।’
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের প্রধান সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। আরও বক্তব্য দেন- সুজনের জাতীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেন। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন যে নমনীয়তা দেখিয়েছে তা ন্যক্কারজনক বলে মন্তব্য করেন বদিউল আলম মজুমদার।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণে অসহিষ্ণুতা ও সহিংস প্রবণতা উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, তা না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সম্প্রতি ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনি প্রচারণার সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে উদ্দেশ্য করে ডিম ও ময়লা পানি নিক্ষেপ করা হয়। নির্বাচন কমিশনকে এর বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘আমরা দেখছি কোনো কোনো প্রার্থীর ওপর ডিম ও ময়লা পানি নিক্ষেপ করা হচ্ছে। এগুলো বন্ধে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দিক থেকে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। কারণ এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা না গেলে পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে যেতে পারে।’
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন দলের সাধারণ সদস্যদের গোপন ভোটে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকা থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য তিনজনের একটি প্যানেল তৈরি করে সেখান থেকে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু আরপিওতে এ বিষয়ে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে বিদ্যমান আরপিওতে প্যানেল বিবেচনায় নিয়ে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া বিধান রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলই এ ধরনের কোনো তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে এ ধরনের প্যানেল তৈরি করেনি এবং কোনো দলই প্যানেল থেকে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়নি, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’
একরাম হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম যে নির্বাচন কমিশন নিজ উদ্যোগে হলফনামার তথ্য ভোটারদের মাঝে বিতরণ করবে। ভোটার-প্রার্থী মুখোমুখি অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে, যাতে নির্বাচনের ব্যয় কমে আসে এবং ভোটাররা জেনে-শুনে-বুঝে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন ও সরকারের মধ্যে যেন দায়িত্ববোধ ফিরে আসে। কারণ আমরা অতীতের মতো মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের দৃশ্য আর দেখতে চাই না।’ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিয়ে এদেশের মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা অনেক। কেননা দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন প্রহসনমূলক হওয়ায় একটি ভালো নির্বাচনের আকাক্সক্ষা মানুষের দীর্ঘদিনের। মানুষ ভোটাধিকার ফিরে পেতে চায়। গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাক, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে সুশাসন বিরাজ করুক এটাই মানুষের চাওয়া। মানুষের এই আকাক্সক্ষা পূরণের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। আর একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়েই শুরু হতে পারে গণতান্ত্রিক উত্তরণের।’
-মামুন










