ঢামেকে চিকিৎসককে নির্যাতনের ঘটনায় তিনজনের কারাদণ্ড

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত তিনজনকে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন মো. শাকিব হোসেন (২৪), মো. শাহরিয়া নাজিম রবিন (২১) ও ইমতিয়াজ আহাম্মেদ (২৫)
বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।

তালেবুর রহমান বলেন, বুধবার রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় লাকি বেগম (৩৪) নামের এক নারীকে তার আত্মীয় স্বজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। চিকিৎসা চলাকালে রাত আনুমানিক ১১টার সময় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু লাকি বেগমের ছেলে রাকিব দাবি করে ভুল চিকিৎসায় তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকিবের বন্ধু গ্রেপ্তার শাকিব ফোন করে তার আরও কিছু বন্ধুদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসতে বলেন।

কিছুক্ষণ পর শাকিবসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০/৩০ জন লোক হাসপাতালে এসে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা সেখানে কর্তব্যরত দুইজন ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করে। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তিনজনকে আটক করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পে হস্তান্তর করে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় বাকি হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

আটক করা তিনজনকে পরে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে উপস্থাপন করা হলে তাদের অপরাধ আমলে নিয়ে প্রত্যেককে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডিতদের কারাগারে পাঠানো হয়।
হামলার ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢামেক ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক ডা. নাদিম হোসাইন বলেন, পরিপূর্ণ চিকিৎসা দেওয়ার পরও এমন রোগী যে কোনো মুহূর্তে বিদায় হয়ে যেতে পারে। শত চেষ্টার পরও এই রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে এমন রোগী এলে আরও অন্য ইমারজেন্সির রোগীর সাথেই তাদের চিকিৎসাও নিশ্চিত করা হয়। যদিও অন্য রোগীদের ভিড়ে তা অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে উঠে। তবুও আমরা চেষ্টা করি অন্যদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি খারাপ রোগীর দিকে মনোযোগ দিতে। নির্মম সত্য হলো, এর পরও নিয়তির কারণে সব রোগীকে ফেরানো সম্ভব হয় না। তিনি আরও বলেন, সকল চেষ্টার পরও রোগী মারা গেলে আবেগ, ক্ষোভ আর রাগ সব চিকিৎসকদের গায়ে হাত তুলে মিটানোর চেষ্টা চালান স্বজনরা, যা সত্যিই দুঃখজনক।

-বায়েজীদ