প্রায় ১৪ বছর পর পুনরায় চালু হওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় জাপানের বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়ার কার্যক্রম আবার স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী সংস্থা জানিয়েছে, সমস্যার সমাধানের সময় এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
নিগাতা প্রদেশে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি ২০১১ সালের ফুকুশিমা পারমাণবিক দুর্ঘটনার পর বন্ধ ছিল। পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর বুধবার কেন্দ্রটি পুনরায় চালু হয়েছিল।
তবে বৃহস্পতিবার টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কম্পানি (টেপকো) জানায়, রিঅ্যাক্টর চালু করার সময় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার একটি অ্যালার্ম বেজে ওঠায় নিরাপত্তার কারণে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক তাকেউকি ইনাগাকি বলেন, সমস্যার প্রকৃতি শনাক্ত করতে পুরো মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং সমাধানে এক-দুই দিন লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে না।
টেপকোর মুখপাত্র তাকাশি কোবায়াশি জানান, রিঅ্যাক্টরের কন্ট্রোল রডগুলো পুনরায় ঢুকিয়ে রিঅ্যাক্টরকে স্থিতিশীল অবস্থায় আনা হয়েছে। কন্ট্রোল রড রিঅ্যাক্টরের ভেতরে পারমাণবিক বিক্রিয়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করে; বাইরে তুলে দিলে বিক্রিয়া বেড়ে যায়, ঢুকালে ধীর বা বন্ধ হয়ে যায়।
কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কেন্দ্রটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ পারমাণবিক কেন্দ্র হলেও বর্তমানে সাতটি রিঅ্যাক্টরের মধ্যে মাত্র একটি চালু করা হয়েছিল। ২০১১ সালের ভূমিকম্প ও সুনামির পর জাপান সব পারমাণবিক কেন্দ্র বন্ধ করেছিল, তবে দেশটি এখন পুনরায় পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করতে চায়।
এর লক্ষ্য হলো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন এবং বিদ্যুতের বাড়তে থাকা চাহিদা পূরণ করা। তবে স্থানীয় জনমত বিভক্ত; একটি জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ বাসিন্দা পুনরায় চালুর বিরোধী, ৩৭ শতাংশ পক্ষে।
এ মাসের শুরুতে সাতটি সংগঠন প্রায় ৪০ হাজার মানুষের স্বাক্ষরসংবলিত আবেদন টেপকো ও পারমাণবিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেয়। তারা জানায়, কেন্দ্রটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত এবং ২০০৭ সালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান।










