
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় চলমান ইমিগ্রেশন অভিযানের মধ্যে প্রি-স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় পাঁচ বছরের এক শিশুকে আটক করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। শিশুটিকে তার বাবাকে ধরতে ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে এমন অভিযোগে ঘটনাটি ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
শিশুটির নাম লিয়াম কনেজো রামোস। মঙ্গলবার বিকেলে মিনেসোটার কলাম্বিয়া হাইটসে পরিবারের ড্রাইভওয়েতে দাঁড়ানো চলন্ত গাড়ি থেকে তাকে নামিয়ে নেন ফেডারেল এজেন্টরা। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে কলাম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট জিনা স্টেনভিক জানান, এরপর কর্মকর্তারা শিশুটিকে তার বাড়ির দরজায় নক করতে বলেন ভেতরে আর কেউ আছে কি না জানার জন্য। স্টেনভিক বলেন, “মূলত পাঁচ বছরের একটি শিশুকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।”
স্টেনভিক আরও জানান, পরিবারটি ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসে এবং তাদের আশ্রয়প্রার্থনার (অ্যাসাইলাম) মামলা এখনো বিচারাধীন। তাদের দেশ ছাড়ার কোনো আদেশও দেওয়া হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “পাঁচ বছরের একটি শিশুকে কেন আটক করা হবে? এই শিশুকে কি কোনোভাবেই সহিংস অপরাধী বলা যায়?”
তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন এক বিবৃতিতে বলেন, “আইসিই কোনো শিশুকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায়নি।” তার দাবি, শিশুটির বাবা আদ্রিয়ান আলেকজান্ডার কনেজো আরিয়াসকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছিল। “শিশুর নিরাপত্তার জন্য একজন আইসিই কর্মকর্তা তার সঙ্গে ছিলেন, অন্যরা বাবাকে আটক করেন,” বলেন ম্যাকলাফলিন। তিনি আরও বলেন, বাবা-মাকে সন্তানসহ প্রত্যাবর্তন বা নিজের পছন্দের কারও কাছে সন্তানকে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কলাম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুলসের চারজন শিক্ষার্থী আইসিইর হাতে আটক হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার স্কুলে যাওয়ার পথে ১৭ বছরের এক শিক্ষার্থী, পাশাপাশি ১০ ও ১৭ বছরের আরও দুই শিক্ষার্থী রয়েছেন।
পরিবারের আইনজীবী মার্ক প্রোকোশ জানান, লিয়াম ও তার বাবাকে টেক্সাসের ডিলি শহরের একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে এবং তারা একটি পারিবারিক সেলে আটক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আইনি উপায়ে বা নৈতিক চাপের মাধ্যমে তাদের মুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে, ডিলি ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে শিশু অধিকার সংগঠন চিলড্রেনস রাইটসের প্রধান আইনি পরামর্শক লিসিয়া ওয়েলচ জানান, পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে খারাপ হয়েছে। “শিশুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, অনেক শিশু ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে আটক,” বলেন তিনি। তার দাবি, প্রায় সব শিশুই অসুস্থ, অপুষ্টিতে ভুগছে এবং দীর্ঘ আটকাবস্থার কারণে চরম মানসিক ও শারীরিক কষ্টে রয়েছে।
মিনিয়াপোলিস সফরে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, তিনি লিয়ামের ‘ভয়াবহ ঘটনা’ শুনেছেন, তবে ফেডারেল এজেন্টরা ভিন্ন কী করতে পারত, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি বলেন, “তারা কী করবে? পাঁচ বছরের একটি শিশুকে কি ঠান্ডায় ফেলে রাখবে? অবৈধ অভিবাসীকে কি গ্রেপ্তার করবে না?”
মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের কর্মকর্তা গ্রেগ বোভিনো জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিনেসোটাজুড়ে প্রায় ৩ হাজার মানুষকে ইমিগ্রেশন অভিযানে আটক করা হয়েছে। তবে মিনেসোটা ইমিগ্র্যান্ট ল সেন্টারের নীতিনির্ধারণী পরিচালক জুলিয়া ডেকার বলেন, সরকারি পরিসংখ্যান ও আটক ব্যক্তিদের সম্পর্কে দেওয়া তথ্য কতটা সঠিক, তা যাচাই করার কোনো উপায় নেই।
এদিকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানান, সেন্ট পলের সিটিজ চার্চে বিক্ষোভের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছিলেন, চার্চের এক পাস্টর ডেভিড ইস্টারউড সেন্ট পল আইসিই ফিল্ড অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মিনিয়াপোলিসের নাগরিক অধিকারকর্মী নেকিমা লেভি আর্মস্ট্রং ও সেন্ট পল স্কুল বোর্ড সদস্য চন্টিল লুইসা অ্যালেন।
ঘটনাগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ও শিশু অধিকার নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
সাবরিনা রিমি/









