ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস, কারা যোগ দিলেন আর কারা দিলেন না?

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘পিস অব বোর্ড’ নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) এই বোর্ড গঠনের জন্য একটি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।  ট্রাম্পের দাবি, গাজা পুনর্গঠন এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এই বোর্ড গঠন করা হলেও এর কার্যকারিতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্বনেতাদের মধ্যে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের ছাড়া বিশ্বের অধিকাংশ দেশ সঠিকভাবে চলতেই পারে না।’ তার এই মন্তব্য বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

প্রাথমিকভাবে গাজা পুনর্গঠনের জন্য দুই বছরের জাতিসংঘ ম্যান্ডেটের কথা বলা হলেও, বোর্ডের ১১ পৃষ্ঠার খসড়া সনদে ‘গাজা’ শব্দের কোনো উল্লেখ নেই।  পরিবর্তে, এটি একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায় যা বর্তমান জাতিসংঘ ব্যবস্থার বিকল্প বা প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে।

এই বোর্ডের কাঠামো অনুযায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এর চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করবেন এবং যেকোনো সিদ্ধান্তে তার একক ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে।  বোর্ডের নির্বাহী পরিষদে থাকছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

এছাড়া গাজা প্রশাসনের জন্য ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ গাজা’ নামে একটি বেসামরিক শাখা এবং স্থায়ী নিরস্ত্রীকরণের জন্য মার্কিন জেনারেল জ্যাসপার জেফারসের নেতৃত্বে একটি সামরিক শাখা গঠনের কথা বলা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ইসরাইল, পাকিস্তান, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো, সৌদি আরব এবং হাঙ্গেরির মতো দেশগুলো এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে।  আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত কর্তৃক যুদ্ধাপরাধের পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এতে যোগ দিচ্ছেন।

অন্যদিকে, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নরওয়ে এবং সুইডেন সরাসরি এই উদ্যোগে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।  ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং জাপানের মতো দেশগুলো এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই বোর্ড জাতিসংঘের কার্যকারিতাকে খর্ব করতে পারে।  কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, অনেক দেশ শুধুমাত্র হোয়াইট হাউসের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা এবং ভবিষ্যতে কোণঠাসা হওয়া এড়াতে এই বোর্ডে যোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে, চীন ও রাশিয়া এখনও এ নিয়ে নীরব রয়েছে।

চীন গত বছরই নিজস্ব ‘গ্লোবাল গভর্নেন্স ইনিশিয়েটিভ’ চালু করায় ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।  শেষ পর্যন্ত এই বোর্ড বিশ্ব শান্তির মডেল হবে নাকি জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হবে, তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।

-সাইমুন