বগুড়ায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলার সাতটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে এ প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৩৫ জন বৈধ প্রার্থী তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী প্রতীক গ্রহণ করেন। প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সব প্রার্থীই ভোটের চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
বগুড়া জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা), বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ), বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া), বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম), বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট), বগুড়া-৬ (বগুড়া সদর) এবং বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনগুলোতে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি আসনেই প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের পাশাপাশি শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে সারা দেশের মতো বগুড়া জেলাতেও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি ও নিয়ম-কানুন মেনে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন। ওই দিন থেকেই পোস্টার, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে যাওয়ার সুযোগ পাবেন প্রার্থীরা।
ইতোমধ্যে শিবগঞ্জ, শেরপুর, ধুনট, সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, গাবতলী, শাজাহানপুর, কাহালু, নন্দীগ্রাম ও সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীরা তাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে প্রচার-প্রচারণার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করেছেন। অনেক প্রার্থী এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রচার কার্যালয় খোলার কাজ শুরু করেছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও জানান, প্রতীক বরাদ্দের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হয়েছে। তিনি সবাইকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার চালানোর আহ্বান জানান। নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, র্যাব, আনসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচনকে ঘিরে আগ্রহ ও আলোচনা শুরু হয়েছে। হাট-বাজার ও চায়ের দোকানে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—কে হচ্ছেন তাদের পরবর্তী সংসদ সদস্য। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা কর্মসংস্থান ও উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
-শফিকুল ইসলাম বাবলু, বগুড়া










