দাভোস সম্মেলনে কেন সানগ্লাস পরে বক্তব্য দিলেন মাখোঁ

গত মঙ্গলবার এই সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেন মাখোঁ; কিন্তু তার বক্তব্যের চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে চোখে থাকা নীল রঙের উজ্জ্বল ‘অ্যাভিয়েটর’ সানগ্লাস

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের সামনে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ; কিন্তু তার বক্তব্যের চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে চোখে থাকা নীল রঙের উজ্জ্বল ‘অ্যাভিয়েটর’ সানগ্লাস।

গত মঙ্গলবার এই সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেন মাখোঁ। গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব ও ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকির পাল্টা জবাব দেন তিনি। তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের চেয়েও মাখোঁ-র চশমা নিয়ে আলোচনা ছিল তুঙ্গে। ফরাসি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মাখোঁ কোনো শখের বসে এই চশমা পরেননি, বরং চোখের একটি সমস্যার কারণে তাঁকে এটি পরতে হয়েছে।

গত সপ্তাহেই ফ্রান্সে এক সামরিক অনুষ্ঠানে তার চোখ লাল দেখা গিয়েছিল। সে সময়ও তাঁকে একই ধরনের চশমা পরতে দেখা যায়। সেনাসদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় মাখোঁ নিজের চোখের এই অবস্থার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, এটি গুরুতর কিছু নয়।

বিষয়টিকে হালকাভাবে নিয়ে রসিকতা করতেও ছাড়েননি মাখোঁ। তিনি তার এই চোখের অবস্থাকে বিখ্যাত ‘রকি-৩’ সিনেমার গানের আদলে ‘আই অফ দ্য টাইগার’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘যাঁরা এই কথার মানে বোঝেন, তাঁরা জানেন এটি সংকল্প বা দৃঢ়তার প্রতীক।’

চিকিৎসকদের মতে, মাখোঁর চোখের এই সমস্যাটি মূলত ‘সাব-কনজাংটিভাল হেমোরেজ’। চোখের একটি সূক্ষ্ম রক্তনালী ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে এমনটা হয়। এতে কোনো ব্যথা হয় না এবং দৃষ্টিশক্তিরও কোনো ক্ষতি হয় না। সাধারণত জোরে হাঁচি বা কাশি দিলে কিংবা চোখে ঘষা লাগলে এমনটা হতে পারে।

তবে এটি ক্ষতিকর কিছু নয় এবং সাধারণত দুই সপ্তাহের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়। মূলত ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এই সমস্যার ঝুঁকি বেশি থাকে। চিকিৎসকদের মতে, দৃষ্টিশক্তি রক্ষার জন্য মাখোঁর এই সানগ্লাস পরা মোটেও জরুরি ছিল না। মূলত জনসমক্ষে নিজের চেহারা বা ভাবমূর্তি ঠিক রাখতেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন।

মাখোঁর এই সানগ্লাস পরা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ তাঁকে ফরাসি অপভাষা ‘কেকে’ (kéké) বলে খোঁচা দিচ্ছেন, যার অর্থ—যে ব্যক্তি খুব বেশি নিজেকে জাহির করতে পছন্দ করেন। আবার অনেকে তাঁকে ‘সাইবর্গ’ বলে ডাকছেন। কেউ কেউ হলিউড তারকা টম ক্রুজের বিখ্যাত সিনেমা ‘টপ গান’-এর সঙ্গে তাঁর চেহারার তুলনা করছেন। ১৯৮৬ সালের ওই সিনেমায় টম ক্রুজের পরা এই ‘অ্যাভিয়েটর’ চশমাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ফ্যাশনে পরিণত হয়েছিল।

তবে চশমা পরে থাকলেও মাখোঁর বক্তৃতায় ছিল কড়া রাজনৈতিক বার্তা। বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, পৃথিবী এখন স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঝুঁকছে। আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সাম্রাজ্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, মাখোঁ সেটির তীব্র সমালোচনা করেন।

উল্লেখ্য, গাজা ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ যোগ দিতে রাজি না হওয়ায় ফ্রান্সের ওয়াইন ও শ্যাম্পেন আমদানির ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে রেখেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাখোঁর বক্তব্যে সেই হুমকির পাল্টা জবাবই ফুটে উঠেছে।

-মামুন