বিএনপির সঙ্গ ছাড়লেন মান্না: নাগরিক ঐক্যের একক নির্বাচনের ঘোষণা

জেএসডির পর এবার বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন ‘নাগরিক ঐক্য’ নির্বাচনী জোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় দলটি এখন এককভাবে নির্বাচনের পথে হাঁটছে। সোমবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মান্না এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
মূলত মাহমুদুর রহমান মান্নার নিজের নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনটি নিয়ে এই বিরোধের সৃষ্টি। জোটগত আলোচনার শুরুতে এই আসনটি মান্নাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে বিএনপি এই আসনে তাদের স্থানীয় নেতা শাহে আলমকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেয়। মান্না একাধিকবার বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে শাহে আলমের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালেও বিএনপি তাতে সাড়া দেয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মান্না আসন সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে আলাদাভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না স্পষ্ট করে বলেন, “আমি জানতাম সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপি বগুড়া-২ আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না। কিন্তু তারা আমাকে উপেক্ষা করে নিজ দলের প্রার্থী বহাল রেখেছে।” তিনি আরও জানান, রাজনীতির অংশ হিসেবে তিনি নির্বাচনে লড়বেন এবং কোনোভাবেই পিছু হটবেন না। মান্না এবার দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন: ১. বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) ২. ঢাকা-১৮
নাগরিক ঐক্য এই দুটি আসন ছাড়াও আরও ১০টি আসনে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে। ২০১৩ সালের পর থেকেই বিএনপির সঙ্গে মাহমুদুর রহমান মান্নার ঘনিষ্ঠতা শুরু হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’-এর অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন তিনি। সেই নির্বাচনেও তিনি বগুড়া-২ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়েছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়েও তিনি বিএনপির সঙ্গে ‘যুগপৎ আন্দোলনে’ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার শেষ মুহূর্তে আসন ভাগাভাগি নিয়ে এই দূরত্ব তৈরি হলো।
এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জেএসডিও বিএনপি থেকে সরে গিয়ে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিল। লক্ষ্মীপুর-৪ আসনটি বিএনপি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় তারা জোট ত্যাগ করে। নাগরিক ঐক্যের এই প্রস্থান বিএনপির মিত্র জোটের শক্তি আরও কিছুটা সংকুচিত করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
লামিয়া আক্তার