জাতিসংঘকে একটি ‘অকার্যকর’ সংস্থা হিসেবে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল মঙ্গলবার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাঁর প্রস্তাবিত ‘শান্তি পর্ষদ’ (বোর্ড অব পিস) জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
সম্প্রতি গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকির লক্ষ্যে বিশ্বনেতাদের নিয়ে একটি ‘শান্তি পর্ষদ’ গঠনের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এই পর্ষদে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছেন।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকরা ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, তাঁর প্রস্তাবিত শান্তি পর্ষদ জাতিসংঘের জায়গা নিতে পারে কি না। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা সম্ভব।’ তিনি আরও মন্তব্য করেন, জাতিসংঘ খুব একটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, জাতিসংঘের সম্ভাবনা থাকলেও কোনো যুদ্ধ বা বড় সংঘাতের সমাধানে তিনি কখনো এই সংস্থার দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবেননি।
এর আগে একই দিনে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ইউরোনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভোট অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি পর্ষদের মাধ্যমে ‘জাতিসংঘ ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন’ করার চেষ্টা করছেন।
প্রিভোট বলেন, ঠিক কতজন নেতাকে এই শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে বেলজিয়ামকে কোনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তিনি এই উদ্যোগকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ট্রাম্প মূলত ‘নিজস্ব একটি বোর্ড’ গঠনের পথে এগোচ্ছেন।
জানা গেছে, গত ১৬ জানুয়ারি থেকে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের নেতাদের তাঁর শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এই পর্ষদের স্থায়ী সদস্য হতে হলে ১০০ কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নতুন সংস্থার উদ্দেশ্য হলো বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনে একটি সাহসী ও নতুন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গঠিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই ‘শান্তি পর্ষদ’ আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
-আফরিনা সুলতানা/










