কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না: সুষ্ঠু ভোটের বার্তা দিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারচুপির সুযোগ দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, “সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। সঠিকভাবে ভোট গণনার মাধ্যমে যিনি বেশি ভোট পাবেন, তিনিই বিজয়ী হিসেবে ঘোষিত হবেন।”
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে বরগুনা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সুষ্ঠু নির্বাচনের তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তার বক্তব্যে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট সফল করতে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন: ১. ভোটাধিকার নিশ্চিত করা: প্রতিটি ভোটার যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করা। ২. সঠিক ভোট গণনা: প্রতিটি কেন্দ্রের ভোট স্বচ্ছতার সঙ্গে গণনা করা এবং কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ না দেওয়া। ৩. প্রকৃত বিজয়ীকে ঘোষণা: যিনি সত্যিকার অর্থে জনগণের ম্যান্ডেট পাবেন, তাকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা।
গণভোট ও সরকারের অবস্থান
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় গণভোট প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, “সরকার সংস্কারের পক্ষে এবং আমরা জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উৎসাহিত করব। তবে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেব না; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দেশের সাধারণ জনগণই।” তিনি আরও যোগ করেন, সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকবে।
কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের প্রতি নির্দেশনা
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “আপনাদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ বা পছন্দ থাকতেই পারে, কিন্তু দায়িত্ব পালনের সময় সেটি যেন প্রভাব না ফেলে। আপনাদের নিরপেক্ষতা হবে এই নির্বাচনের মূল শক্তি।”
পাশাপাশি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, জনগণকে ভোটকেন্দ্রে যেতে উদ্বুদ্ধ করতে এবং নির্বাচনের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম লক্ষ্য করলে তা তাৎক্ষণিক তুলে ধরার আহ্বানও জানান তিনি।
লামিয়া আক্তার