নানা কৌশলে তামাক কোম্পানির রাজস্ব ফাঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

তামাক কোম্পানিগুলো নানা কৌশলে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে বলে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিএমএ ভবনে “তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে ২০টি জেলার অবস্থা পর্যালোচনা ও করণীয়” শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভায় গবেষনাপত্রটি প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় বাংলাদেশের ২০টি জেলা থেকে রাজস্ব ফাঁকি বিষয়ক তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর নেটওয়ার্ক কর্মকর্তা আজিম খান।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, ৫৫ শতাংশ (১১টি) জেলায় প্যাকেটে উল্লেখিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য অনুযায়ী তামাক পণ্য বিক্রি হয় না। ৮০ শতাংশ (১৬টি) জেলায় প্যাকেটে উল্লেখিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য অনুযায়ী তামাক পণ্য বিক্রয়ের বিষয়টি তদারকি করা হয় না। ৫৫ শতাংশ জেলায় (১১টি) জর্দা-গুল বাজেট নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হয় না। ৭৫ শতাংশ (১৫টি) জেলায় প্যাকেটে উল্লেখিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বিক্রয়ের বিধান লঙ্ঘনে কোনো জরিমানা করা হয়নি। ১০ শতাংশ (১৮টি) জেলায় তামাক পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে লাইসেন্সিং ব্যবস্থার প্রচলন নেই। ৮৫ শতাংশ (১৭টি) জেলায় লাইসেন্সিং না থাকায় জরিমানা করা হয় না।

গবেষণায় দেখা যায়, অন্তর্ভুক্ত জেলাসমূহের মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার সামগ্রিক বাস্তবায়ন পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে সন্তোষজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বিপরীতে, শেরপুর জেলার বাস্তবায়ন অবস্থা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে আইন প্রয়োগ, নিয়মিত মনিটরিং এবং প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছে। “জেলাভিত্তিক রিপোর্ট কার্ড”-এ আরো দেখা যায়, অধিকাংশ জেলাতেই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে দূর্বলতা রয়েছে। ৯টি জেলায় টাস্কফোর্স সভা নিয়মিত হয় না , ১২টি জেলায় তামাকজাত পণ্যের মোড়কে তিন মাস অন্তর স্বাস্থ্য সতর্কবাণী বানী পরিবর্তনের নমুনা পাওয়া যায়নি এবং ১৪টি জেলা থেকে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলে কোনো প্রতিবেদন পাঠানোর তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়াও ৬টি জেলায় পাবলিক প্লেসে নো-স্মোকিং সাইনেজ নেই, ১৭টি জেলায় গত তিন মাসে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কোনো জরিমানা করা হয়নি এবং ১৮টি জেলায় অভিযোগ জানানোর কোনো ব্যবস্থাই নেই। ১০টি জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে এবং ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের হেড অব প্রোগ্রাম সৈয়দা অনন্যা রহমানের সঞ্চালনায় মতবিনিসয় সভায় অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মো.আখতারউজ-জামান, বাংলাদেশ রেলওয়ের আইবিআরটিএফ প্রোজেক্ট এর কনসালটেন্ট হোসেন আলী খান্দকার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্যানেটারি ইন্সপেক্টর মো. কামরুল হাসান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক জামাল নাসের খান, ঢাকা সিভিল সার্জন অফিসের সিনিয়র শিক্ষা কর্মকর্তা শাহানা পারভীন, জুনিয়ার স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবা জেসমিনসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ টাস্কফোর্স কমিটির সকল সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু, এমআরপি অনুযায়ী তামাক পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করা এবং আইন লঙ্ঘনকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। বক্তারা আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি দ্রুত আইনে পরিণত করা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, গবেষণা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। তারা বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সাথে বেসরকারি সংস্থাসমুহকে আর্থিক অনুদান প্রদানের মাধ্যমে সম্পৃক্ত করা জরুরি।

বায়েজীদ/সুশান্ত