ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশটির সাম্প্রতিক বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ ধরনের স্বীকারোক্তি দেশটিতে বিরল, কারণ অতীতে দেশটিতে বিক্ষোভ হলেও তিনি কখনো হতাহতের সংখ্যা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি।
গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক দিনের মধ্যে এটি ভয়াবহ মাত্রার সহিংসতায় রূপ নেয়। ইরানের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমন করতে শক্ত হাতে নেমেছে। তবে এই সময়ে দেশটির সরকার, বিদেশে অবস্থানরত বিরোধীরা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে হতাহতের সংখ্যা ও ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিয়ে বড় ধরনের ভিন্নতা দেখা গেছে।
কী ঘটেছে
প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। কয়েক দিনের মধ্যে তা সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ফরেনসিক বিভাগের প্রধান আব্বাস মাসজেদি আরানি জানান, নিহতদের অনেককে কাছ থেকে বা ছাদ থেকে বুকে ও মাথায় গুলি করা হয়েছে। মারাত্মকভাবে জখম করা এবং ছুরিকাঘাতের মাধ্যমে অনেককে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের বেশির ভাগই তরুণ-তরুণী, যারা ২০ বছরের কোঠার মধ্যে ছিলেন।
ইন্টারনেট বন্ধ
৮ জানুয়ারি রাতে সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা ও মুঠোফোন যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ফলে জরুরি উদ্ধার কাজও ব্যাহত হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ পর ধীরে ধীরে সীমিত ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হয়। এই সময় বিক্ষোভের ভিডিও বিদেশে পৌঁছানোও খুব সীমিত ছিল।
সরকারি অবস্থান
ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্ররোচনা ছিল। খামেনি নিজেও ট্রাম্পকে ‘অপরাধী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে, তাদের দ্রুত শাস্তি দেওয়া হবে এবং কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বিরোধী ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা
বিদেশে অবস্থানরত বিরোধীরা বলেন, নিহতদের অধিকাংশই রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) ৩,৩০০-এর বেশি মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। আরও ৪,৩০০ জনের মৃত্যু যাচাই করা হচ্ছে। বিক্ষোভে গুরুতর আহত হয়েছেন ২,১০৭ জন এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৪,০০০-এর বেশি মানুষ।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভ চলাকালীন ইরানের জনগণকে রাস্তা ছাড়তে না বলার আহ্বান জানান এবং পরে কিছুটা অবস্থান পরিবর্তন করেন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরাসরি মন্তব্য না করলেও, তার প্রশাসন কর্মকর্তাদের ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বর্তমানে তেহরান ও অন্যান্য শহরে নিরাপত্তা বাহিনী টহল দিচ্ছে। যদিও রাস্তায় বড় ধরনের বিক্ষোভ নেই, জনগণ এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
-এমইউএম










