আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি নতুন, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন শুধু টিকে থাকা নয়, বরং স্থিতিশীলতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা।
মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত পলিসি সামিট–২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নতুন বাংলাদেশ হবে ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেখানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে থাকবে শূন্য সহনশীলতা নীতি এবং সব ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতেই এই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তি। তবে স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
গত ১৭ বছরের শাসনব্যবস্থাকে ব্যর্থ ও কর্তৃত্ববাদী উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এ সময় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে, জবাবদিহি কমেছে এবং নাগরিকদের কণ্ঠস্বর সংকুচিত হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তরুণদের নেতৃত্বে জনগণ আবারও নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের দাবিতে রাজপথে নেমে আসে।
অর্থনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি হলেও কর্মসংস্থানের মান কমে গেছে। বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। অধিকাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক ও অনিরাপদ কাজে নিয়োজিত, যেখানে আয় কম এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষিত তরুণরা শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানে যেতে পারছে না এবং নারীরা সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনও নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন। শুধু প্রবৃদ্ধি নয়, মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সক্ষমতাই হওয়া উচিত অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রকৃত মানদণ্ড।
প্রবাসী শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ভেতরের শ্রমজীবী মানুষ ও প্রবাসীরা অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। রেমিট্যান্স শুধু অর্থ নয়, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার বড় উৎস হিসেবেও কাজ করছে।
নারীদের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, নারীদের পূর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটি কেবল ন্যায়ের প্রশ্ন নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রয়োজন।
সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, অতীতে জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত মন্ত্রণালয়গুলোতে দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষ প্রশাসনের উদাহরণ রয়েছে। ভবিষ্যতেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, ইনসাফ, মর্যাদা ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তা, প্যানেলিস্ট ও বিশেষজ্ঞদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
-এমইউএম










