বিশ্বজুড়ে ধনাঢ্য ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে সম্পদের ব্যবধান এক চরম ও ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১২ জন ধনকুবেরের হাতে যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তা পৃথিবীর অতিদরিদ্র অর্ধেক মানুষের (প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ) মোট সম্পদের চেয়েও বেশি। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
অক্সফামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে বিলিয়নিয়ারদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে। প্রতিবেদনে বিশেষত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অর্থনৈতিক নীতিমালার প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মধ্যে অতিধনীদের সম্পদ ১৬.২ শতাংশ বেড়ে ১৮.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অক্সফাম বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং করপোরেট কর বৃদ্ধির আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো অগ্রাহ্য করার পদক্ষেপ ধনকুবেরদের আরও ধনী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। বিশেষ করে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য নির্ধারিত ১৫ শতাংশ ন্যূনতম করহার থেকে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে সংস্থাটি।
অক্সফামের নির্বাহী পরিচালক অমিতাভ বেহার সতর্ক করে বলেছেন, “অঢেল অর্থ এখন রাজনৈতিক ক্ষমতা কেনার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইলন মাস্কের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) কেনা কিংবা জেফ বেজোসের ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর মালিকানা প্রমাণ করে যে, শীর্ষ ধনীরা এখন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছেন। এই ক্ষমতা সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের চাবিকাঠি ধনকুবেরদের হাতে তুলে দিচ্ছে, যা গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি।
অক্সফামের এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে এল যখন ট্রাম্পের আগমনের খবরে দাভোসে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত রোববার প্রায় ৩০০ বিক্ষোভকারী দাভোসে জড়ো হয়ে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিবাদ জানান। তাঁদের অনেকের মুখে ছিল ইলন মাস্ক ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মুখোশ।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, কোনো গণতান্ত্রিক বৈধতা ছাড়াই গুটিকয়েক মানুষ দাভোসে বসে পুরো বিশ্বের ভাগ্য নির্ধারণ করছেন, যা সমঅধিকারের পরিপন্থী।
-এম. এইচ. মামুন










