আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণসহ আসামিদের উপস্থিতিতে বিচার শুরু

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের (চার্জশিট) শুনানির মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা ২২ জন আসামিকে আজ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হবে। এর আগে গত ১৪ জানুয়ারি মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত ১৯ জানুয়ারি চার্জগঠনের দিন ধার্য করেছিলেন। ওইদিন কয়েকজন আসামি নিজেদের জন্য আইনজীবী ও নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করলে আদালত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারের পর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করলে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তার অনুসারীরা। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের একপর্যায়ে আদালত এলাকায় মসজিদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। ওইদিন বিকেলেই আদালতের প্রধান ফটকের বিপরীতে রঙ্গম কনভেনশন হলের গলিতে একদল বিক্ষোভকারীর হামলায় নৃশংসভাবে খুন হন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৯ নভেম্বর নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১ জুন তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

তদন্তে এজাহারনামীয় তিনজনের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। তবে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনকে অভিযুক্ত করায় মোট আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৯ জনে। গত বছরের ২৫ আগস্ট আদালত এই ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন।

মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় এটি বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। আজ চার্জগঠনের শুনানি সফলভাবে সম্পন্ন হলে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণের মাধ্যমে মামলার মূল বিচারিক ধাপ শুরু হবে।

আইনজীবী মহল এবং সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এখন চট্টগ্রামের এই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের দিকে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।

-এম এইচ মামুন