আজ রোববার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, ‘বিপিসিকে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রক্রিয়া শুরুর জন্য বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসানকে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হচ্ছে। এখন সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে এলপিজি আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমদানি করা গেলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং ভারসাম্য আসবে।’
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানান, আপাতত সরকার শুধু এলপিজি আমদানির পর্যায়েই যুক্ত থাকবে। সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণ কার্যক্রমে সরাসরি জড়িত হওয়ার আপাতত পরিকল্পনা নেই। এসব কাজ বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমেই করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে এলপিজির সংকট দেখা দিলে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়ে ১০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছিল বিপিসি। চিঠিতে বলা হয়, দেশের এলপিজি বাজার পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় সংকটের সময় সরকারিভাবে বাজারে হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। ফলে সরবরাহ-ঘাটতি ও কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে তা মোকাবিলার কার্যকর কোনো হাতিয়ার সরকারের হাতে থাকে না। বিপিসির ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটিকে এলপিজি আমদানির অনুমতি দেওয়া হলো।
জানতে চাইলে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান বলেন, ‘পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল—কাতার, কুয়েত, ওমান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতে এলপিজির বাজার বেশ বড়। আবার ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াও এই বাজারে রয়েছে। তুলনামূলক দ্রুত সময়ে ও সহজ শর্তে আমদানি করা যায়, এমন দেশ থেকে আমরা এলপিজি আমদানি করব। ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। শিগগির আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।’
বিপিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন ব্যয়, সরবরাহের নিশ্চয়তা ও চুক্তির শর্ত—এসব বিবেচনায় রেখে সবচেয়ে সুবিধাজনক দেশ বা দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। লক্ষ্য একটাই—স্বল্প সময়ে এলপিজি এনে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো। এ নিয়ে আজ রোববার একাধিক বেসরকারি এলপিজি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সভা করেছে বিপিসি।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির সংকট চলছে। সরকার নির্ধারিত দামে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না অনেক জায়গায়। সরবরাহ চাপের কারণে বাজারে সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বলছে, দেশে এলপিজি ব্যবসার লাইসেন্স নিয়েছে ৫২টি কোম্পানি। এর মধ্যে সিলিন্ডারে গ্যাস ভরতে ৩২টি কোম্পানির নিজস্ব প্ল্যান্ট আছে। আমদানি করার সক্ষমতা আছে ২৩টি কোম্পানির। গত বছর কোনো না কোনো মাসে আমদানি করেছে ১৭টি কোম্পানি। আর প্রতি মাসে আমদানি করেছে মাত্র ৮টি কোম্পানি। বছরের শুরুতে আমদানি করলেও শেষ দিকে কেউ কেউ আমদানি বন্ধ রাখে।
দেশে ২০২৩ সালে এলপিজি আমদানি হয় ১২ লাখ ৭৫ হাজার টন। ২০২৪ সালে আমদানি করা হয় ১৬ লাখ ১০ হাজার টন। আর গত বছর আমদানি করা হয়েছে ১৪ লাখ ৬৫ হাজার টন। গত বছর আমদানি আগের বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ কমেছে। এতে বছর শেষে যেটুকু মজুত থাকার কথা, তা-ও বাজারে বিক্রি হয়ে গেছে। এরপর বাজারের চাহিদা আর মেটানো যাচ্ছে না। এ কারণে দ্বিগুণ দামেও এলপিজি সিলিন্ডার পাচ্ছেন না ভোক্তারা।
-মামুন










