নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন ইসদাইর এবং চাষাঢ়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকাগুলো এখন মাদকের নিরাপদ স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এই অঞ্চলে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মাদকের কারবার চলে, যার মাসিক পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি টাকা। আর এই বিপুল অংকের টাকার ভাগবাঁটোয়ারা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এলাকাটিতে একের পর এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও খুনের ঘটনা ঘটছে।
আধিপত্যের লড়াই ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড
সম্প্রতি রায়হান নামের এক বাবুর্চিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় শিউরে উঠেছে এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, গত ১২ জানুয়ারি রাতে ডাকবাংলোর উল্টো দিকের রাস্তায় মনসুর মিয়ার হোটেলের সামনে রাজ্জাক ও তার সহযোগীরা রায়হানকে একা পেয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
রাজ্জাকের ‘মাদক সাম্রাজ্য’ ও অস্ত্রভাণ্ডার
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, এই মাদক সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি ছিলেন রাজ্জাক মিয়া। তার বিরুদ্ধে শুধু মাদক ব্যবসাই নয়, হত্যা ও গুমের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর পুলিশি অভিযানে রাজ্জাকের ঘর থেকে ২টি ম্যাগজিন, ৩ রাউন্ড গুলি, একটি খেলনা পিস্তল, সুইচ গিয়ার চাকু, ৪টি স্টিলের ছোরা এবং ১ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও মোবারক হোসেন ও নজরুলের মতো তরুণদের অপহরণ ও গুম করার নেপথ্যেও রাজ্জাক বাহিনীর নাম উঠে এসেছে।
ক্ষমতার পালাবদল ও নতুন সিন্ডিকেট
গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মাদক ব্যবসার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে রাজ্জাক আত্মগোপনে থাকলেও সেলিনা ওরফে পেদা সেলিনা ও তার বাহিনী পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। এই সিন্ডিকেটে সেলিনার মেয়ের জামাতা ফজর আলীসহ আরও বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া সীমা নামের এক নারীও এই মাদক চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য বলে এলাকাবাসী জানান।
বর্তমানে ইসদাইর থেকে ওসমানী পৌর স্টেডিয়াম পর্যন্ত মাদকের এই নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। স্থানীয়রা এই মাদক সিন্ডিকেট নির্মূল করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
মাহমুদ কাওসার, নারায়ণগঞ্জ।










