প্রবল বর্ষণ আর আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলস। রাজধানী সিডনিসহ উপকূলীয় এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে সিডনির নিচু এলাকাগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ওলংগংয়ে গাছ পড়ে এক নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে সিডনির উত্তরাঞ্চলীয় শহরতলি নারাবিন এলাকায় পানির স্তর বিপদসীমা ছাড়িয়ে গেলে এক জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয় উদ্ধারকর্মীরা। সিডনির এই নিচু এলাকাটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
সিডনি থেকে ৬৬ কিলোমিটার দক্ষিণে ওলংগংয়ে ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়ার ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন। এছাড়া সিডনির উত্তর প্রান্তে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ৭২.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া দপ্তর। রবিবার সকালেও সিডনি ও এর আশপাশের অঞ্চলে বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ পর্যন্ত ১,৪০০টিরও বেশি জরুরি সাহায্যর কল এসেছে। বন্যা কবলিত এলাকাগুলো থেকে অন্তত ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। উদ্ধারকৃতদের অধিকাংশই বন্যার পানির মধ্যে গাড়ি চালাতে গিয়ে আটকা পড়েছিলেন।
সহকারী কমিশনার সোনিয়া অয়স্টন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আকস্মিক বন্যার কারণে রাজ্যের অসংখ্য সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বারবার সতর্ক করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ ও অন্যান্য ত্রাণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার এই সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলসের পাশাপাশি ভিক্টোরিয়া রাজ্যেও বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিডনির ম্যাঙ্কলে লেগুনসহ বেশ কিছু এলাকায় ‘ওয়াচ অ্যান্ড অ্যাক্ট’ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অস্ট্রেলিয়ায় এখন ঘনঘন এ ধরনের চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ার সৃষ্টি হচ্ছে। কয়েকদিন আগে দাবদাহ ও দাবানলের খবরের পর এই আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
-এম. এইচ. মামুন










