বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা: পুরস্কার পেল ১৪৩ শিক্ষার্থী

‘বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা ২০২৫’-এ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। দেশের স্কুল পর্যায়ে আয়োজিত সর্ববৃহৎ এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৫ হাজার ৮৭১ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়, যাদের মধ্যে ১৪৩ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) নবরাত্রি হলে এক জাকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিযোগিতার জুরি বোর্ডের প্রধান, বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সাফওয়ান সোবহান গ্লোবালের ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াশা সোবহান

এছাড়া জুরি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লোকশিল্পের রূপকার আবদুস শাকুর শাহ, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী অধ্যাপক ড. ফরিদা জামান, অভিনেতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেন এবং প্রচ্ছদশিল্পী ধ্রুব এষ।

শিশুদের সৃজনশীলতায় গুরুত্বারোপ
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম বলেন, “শিশুরাই প্রকৃত শিল্পী, যাদের ছবিতে বড়দের মতো কোনো তাত্ত্বিক জটিলতা নেই। এই ঐতিহাসিক আয়োজন শিশুদের সৃজনশীল মেধা বিকাশে এক অনন্য মাইলফলক, যা তাদের ভবিষ্যৎ জীবন বদলে দিতে পারে।” তিনি বলেন, শিল্পচর্চা সমাজে সহিংসতা রোধ করে এবং মানসিক প্রশান্তি আনে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইয়াশা সোবহান বলেন, “আজ আমরা একসঙ্গে উদযাপন করছি শিশুদের মন, তাদের কল্পনা, স্বপ্ন আর ক্রিয়েটিভিটি। আমি বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে কৃতজ্ঞতা জানাই, যার কারণে দেশে এত বড় একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।” তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করে বলেন, “তারা আমাদের দেখিয়েছে, প্রতিভার কোনো সীমারেখা নেই।”

প্রতিযোগিতার বিবরণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তিনটি ক্যাটাগরিতে (তৃতীয়-ষষ্ঠ শ্রেণি, সপ্তম-দশম শ্রেণি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী) অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় মোট ৩০ লাখ টাকার ১৪৩টি পুরস্কার, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

বসুন্ধরা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আনিছুর রহমান বলেন, “এই আয়োজন কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি আমাদের জাতির গৌরবগাথাকে আগামী প্রজন্মের শিল্প-চেতনায় জাগ্রত করার একটি প্রয়াস।” তিনি ঘোষণা দেন, আগামী বছর থেকে এই প্রতিযোগিতা কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে।


মোঃ আশফুল আলম | উপ-সম্পাদক