আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে প্রায় ৪৪ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে পতিত সরকারের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোতে যারা অতি উৎসাহী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাদের এবার কোনো দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি
চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, নির্বাচনের জন্য মোট ৩৯,৭৫০ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রয়োজন হবে। তবে অতিরিক্ত ১০ শতাংশসহ মোট ৪৩ হাজার ৭২৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যা ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
নির্বাচনের জন্য ১,৯৬৫টি ভোটকেন্দ্র এবং ১২,৫৯৫টি ভোটকক্ষ (বুথ) চূড়ান্ত করা হয়েছে।
ভোটার ও কেন্দ্র পরিস্থিতি
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। গত নির্বাচনের তুলনায় ভোটার প্রায় ১ লাখ বাড়লেও কাগজের ব্যালটে ভোট হওয়ায় কেন্দ্রের সংখ্যা গতবারের ২,০২৩টি থেকে কমে ১,৯৬৫টি হয়েছে।
বড় নিয়ামক প্রবাসী ভোট
এবারের নির্বাচনে ফলাফলে বড় নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট। চট্টগ্রামের ১৬টি আসন থেকে মোট ৯৫ হাজার ২৪৬ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটারের সংখ্যাই বেশি। সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনে (১৪,৩০১ জন) এবং সবচেয়ে কম চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে (৩,২০১ জন)।
নির্বাচনী কার্যক্রমের সময়সূচি
চট্টগ্রাম জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ জানান, রুটিন অনুযায়ী সকল কার্যক্রম চলছে।
-
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার: ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত
-
প্রতীক বরাদ্দ: ২১ জানুয়ারি
-
প্রচারণা শুরু: ২২ জানুয়ারি
-
ভোটগ্রহণ: ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার, সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত)
তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে অনেক প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে এবং পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
মোঃ আশফুল আলম | উপ-সম্পাদক










