এনজিও থেকে নেওয়া মাত্র দেড় লাখ টাকা ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ঢাকার কেরানীগঞ্জে মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছেন গৃহশিক্ষিকা মীম ও তার ছোট বোন নূরজাহান।
গ্রেফতার মীম ও তার ছোট বোন নূরজাহানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেয় পুলিশ।
পুলিশ জানান, গৃহশিক্ষিকা মীম ও ভিকটিম রোকেয়া রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ছিল। রোকেয়া রহমান গ্যারান্টার হয়ে মীমকে তিনটি এনজিও থেকে দেড় লাখ টাকা ঋণ তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু কিস্তি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং প্রায়ই ঝগড়া হতো। এ ছাড়া অভিযুক্ত নূরজাহানের দাবি, তার বোন মীমকে রোকেয়া ও তার মেয়ে তাচ্ছিল্য করে কথা বলতেন, যা থেকে তাদের মনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়।
গত ২৫ ডিসেম্বর বিকেলে ফাতেমা (১৪) তার শিক্ষিকা মীমের বাসায় পড়তে গেলে নূরজাহান তাকে গলায় চাপ দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। সিসিটিভি ফুটেজে বিভ্রান্তি ছড়াতে নূরজাহান মৃত ফাতেমার কাপড় বদলে নিজের কাপড় পরিয়ে দেয় এবং নিজে ফাতেমার কাপড় পরে ঘর থেকে বের হয়। এতে দেখে মনে হয়, ফাতেমা সুস্থ অবস্থায় বাসা থেকে চলে যাচ্ছে। এরপর মীম ফাতেমার মাকে ফোন করে জানায় যে তার মেয়ে অসুস্থ। মা রোকেয়া রহমান তড়িঘড়ি করে ওই বাসায় ঢুকলে নূরজাহান পেছন থেকে ওড়না দিয়ে তার গলায় পেঁচ দেয় এবং মীম ধাক্কা দিয়ে তাকে ফেলে দেয়। এরপর দুই বোন মিলে শ্বাসরোধে রোকেয়াকেও হত্যা করে।
হত্যার পর মায়ের লাশ খাটের বক্সের ভেতরে এবং মেয়ের লাশ বাথরুমের ফলস ছাদের ওপর লুকিয়ে রাখা হয়। এরপর খুনি দুই বোন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে থাকেন। গত ৬-৭ জানুয়ারি তারা ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নানীর বাড়িতে গিয়ে বাচ্চার জন্মদিন পালন করেন এবং ১০ জানুয়ারি পুনরায় ওই বাসায় ফিরে আসেন।
দীর্ঘদিন পর ঘর থেকে উৎকট গন্ধ বের হতে থাকলে মীমের স্বামী হুমায়ুনকে তিনি ‘মৃত কুকুর’ বলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু গন্ধ অসহ্য হলে হুমায়ুন নিজেই খাটের নিচে দেখতে গিয়ে লাশটি আবিষ্কার করেন।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি এম সাইফুল আলম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মীম ও তার বোন নূরজাহান স্বীকার করেছে, ঋণের চাপ ও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই তারা এই জোড়া খুন ঘটিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে ফাতেমার পোশাকে অন্য একজনকে বের হতে দেখা গেছে, যা ছিল মূলত নূরজাহানের ছদ্মবেশ।’
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রনি জানান, ‘ভুক্তভোগীর পরিবারের করা জিডি ও পরবর্তী সময়ে অপহরণ মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে। মীম ও তার বোনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তারা ইতোমধ্যেই আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।’
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মীম, তার দুই বোন এবং মিমের স্বামী হুমায়ুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছিল। পরে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মীম ও নূরজাহানকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
সুশান্ত সাহা, সিনিয়র রিপোর্টার









