নির্বাচন সামনে রেখে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর স্থগিত

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া ও সার্বিক প্রস্তুতি মূল্যায়নে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের পূর্বনির্ধারিত ঢাকা সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমার নেতৃত্বে এই দলটির চলতি মাসেই ঢাকায় আসার কথা ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলায় অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এই মুহূর্তে সফরটি না করার অনুরোধ জানানো হয়। আগামী মাসে নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এই সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

সফর স্থগিত হলেও এলডিসি উত্তরণ বিষয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন প্রস্তুতিমূলক মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি যথাসময়েই বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা এবার না এলেও পরে আসবেন। তবে আমরা তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি নির্ধারিত সময়েই পেয়ে যাব। এরপর পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো ধাপে ধাপে এগোবে।”

এদিকে এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা অন্তত ৩ থেকে ৫ বছর পিছিয়ে ২০৩২ সাল পর্যন্ত করার দাবিতে অনড় রয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ এবং আইসিসি বাংলাদেশসহ ১৬টি প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠন মনে করছে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারালে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের সংকটে পড়বে। তাদের আশঙ্কা, উত্তরণের পর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) বিশেষ সুবিধাগুলো না থাকায় রপ্তানি আয় ৬ থেকে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, দেশের ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ হার (প্রায় ১৫%), জ্বালানি সংকটের অনিশ্চয়তা এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা বজায় রেখে এলডিসি থেকে উত্তরণ টেকসই হবে না। বিজিএমইএ-র সাবেক সভাপতি মো. ফজলুল হক বলেন, কারিগরি শিক্ষা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে এখনো আমাদের বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

জাতিসংঘের বর্তমান সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হওয়ার কথা। এর আগে ২০১৮ ও ২০২১ সালে তিন সূচকেই (মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা) উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে জাতিসংঘের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন না করলেও, ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের বিষয়টি জাতিসংঘকে অবহিত করেছে। তবে উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

-এম এইচ মামুন