অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের ৪৭ লাখ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বাতিল

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আইন কার্যকর হওয়ার পর এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনটি পাস হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্ট বাতিল বা সীমাবদ্ধ করেছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি।

অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী অ্যানিকা ওয়েলস এই ঘটনাকে শিশুদের ‘শৈশব ফিরে পাওয়ার’ এক বড় বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। গত ডিসেম্বরে পাস হওয়া এই বিতর্কিত ও সাহসী আইনের আওতায় ১০টি প্রধান প্ল্যাটফর্ম— ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, এক্স (টুইটার), ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট, রেডিট, থ্রেডস, কিক এবং টুইচ—তাদের তথ্য সরকারের কাছে জমা দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শিশুদের বলে শনাক্ত হওয়া ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় ৮ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ। কিন্তু বাতিল হওয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ৪৭ লাখ হওয়ার কারণ হলো—অনেক শিশুই একাধিক প্ল্যাটফর্মে একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করত। ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট জানান, আগের হিসেবে ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের ৮৪ শতাংশেরই অন্তত একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার এই নতুন আইন অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মগুলো যদি ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের অ্যাকাউন্ট সরাতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। প্রতিটি ব্যর্থতার জন্য কোম্পানিগুলোকে সর্বোচ্চ ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৩৩.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যম যেমন হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুক মেসেঞ্জারকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

যোগাযোগমন্ত্রী অ্যানিকা ওয়েলস সাংবাদিকদের বলেন, “অনেকে বলেছিলেন এটি অসম্ভব, কিন্তু আমরা তাদের ভুল প্রমাণ করেছি। এখন অস্ট্রেলিয়ার অভিভাবকরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন যে তাদের সন্তানরা ক্ষতিকর অনলাইন পরিবেশ থেকে দূরে থেকে স্বাভাবিক শৈশব কাটাতে পারবে।”

অস্ট্রেলিয়ার এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে শিশু সুরক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেক দেশ এখন অস্ট্রেলিয়াকে মডেল হিসেবে গ্রহণ করে নিজ দেশেও একই ধরনের আইন করার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও গোপনীয়তা রক্ষা কর্মীদের একাংশ এই ‘বয়স যাচাই’ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত তথ্য পাচারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

-এম. এইচ. মামুন