যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কোম্পানির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা

তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ জন ব্যক্তি এবং ২০টি প্রতিরক্ষা কোম্পানির ওপর শুক্রবার নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় বোয়িংয়ের সেন্ট লুইস শাখাও রয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও কোম্পানিগুলোর চীনে থাকা সব ধরনের সম্পদ জব্দ করা হবে এবং চীনের অভ্যন্তরে কোনো সংস্থা বা ব্যক্তির সঙ্গে তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন নিষিদ্ধ করা হবে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, তাইওয়ান ইস্যু হচ্ছে “চীনের মূল স্বার্থেরও মূল স্বার্থ” এবং এটি চীন–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এমন একটি প্রথম লালরেখা, যা অতিক্রম করা যাবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের জবাবে চীন কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানকে অস্ত্র দেওয়ার মতো “বিপজ্জনক” প্রচেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।

চীন গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে, তবে তাইপে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে।

এদিকে চীনের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, বেইজিংয়ের এই সিদ্ধান্তে ওয়াশিংটন দৃঢ়ভাবে আপত্তি জানাচ্ছে। তিনি বলেন, তাইওয়ান নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান গত নয়টি প্রশাসন জুড়ে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং এটি তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া ওয়াশিংটনের বাধ্যবাধকতা। তবে এ ধরনের অস্ত্র বিক্রি দীর্ঘদিন ধরেই চীন–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের একটি বড় ধরনের উত্তেজনার কারণ।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও সমালোচনা করে জানায়, তাইওয়ানকে আত্মরক্ষায় সহায়তা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের চীনা প্রচেষ্টার তারা বিরোধিতা করে। একই সঙ্গে বেইজিংকে তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বন্ধ করে তাইপের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপে বসার আহ্বান জানানো হয়।

এই নিষেধাজ্ঞা এমন এক সময়ে এলো, যখন বোয়িং চীনের বিভিন্ন এয়ারলাইনের কাছে সর্বোচ্চ ৫০০টি বেসামরিক উড়োজাহাজ বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে বলে সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়। এমন কোনো চুক্তি হলে তা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমান বাজার চীনে বোয়িংয়ের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে অর্ডার স্থবির হয়ে পড়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

এম এম সি/