দীর্ঘ এক দশকের গৃহযুদ্ধ আর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাওয়া ইয়েমেনে আবারও বড় ধরনের নেতৃত্ব পরিবর্তন ঘটেছে। সৌদি আরব সমর্থিত ‘প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল’ (পিএলসি)-এর কাছে সালেম বিন ব্রেইক পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শায়া মোহসেন জিনদানির নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে সৌদি জোটের সাম্প্রতিক সাফল্যের পর এটি একটি কৌশলগত পরিবর্তন। সালেম বিন ব্রেইকের স্থলাভিষিক্ত হওয়া শায়া মোহসেন জিনদানি ইয়েমেনের একজন ঝানু কূটনীতিক। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার এই নিয়োগকে ইয়েমেনের প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও সুসংহত করার চেষ্টা হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।
২০১৪ সালে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করলে ইয়েমেন সংকটের শুরু হয়। ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথিদের দমনে অভিযান চালালেও বর্তমানে দেশটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত, উত্তরাঞ্চল এখনও হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে ও দক্ষিণাঞ্চল যা সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের অধীনে।
বিগত কয়েক বছরে দক্ষিণ ইয়েমেনে ‘সাউদার্ন ট্রানজেশন কাউন্সিল’ (এসটিসি)-এর উত্থান পরিস্থিতির আরও জটিল করে তুলেছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীটি স্বাধীন দক্ষিণ ইয়েমেনের দাবি তুলে সরকারের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। এমনকি এসটিসি ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিধর দেশ সৌদি আরব ও আমিরাতের সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দেয়।
রিয়াদের চাপে আবুধাবি দক্ষিণ ইয়েমেন থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিলে এসটিসি কোণঠাসা হয়ে পড়ে। সম্প্রতি সৌদি জোটের জোরালো সামরিক অভিযানের মুখে এসটিসি প্রেসিডেন্ট এইদারুস আল জুবাইদি প্রাণ বাঁচাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আশ্রয় নিলে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা কার্যত স্তিমিত হয়ে যায়।
দক্ষিণাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমন এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ফিরে আসার পরই প্রধানমন্ত্রী পদে এই রদবদল আনা হলো। পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়া জিনদানির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো—হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কার এবং দক্ষিণাঞ্চলের শান্ত পরিস্থিতি ধরে রাখা।
ইয়েমেনের এই নেতৃত্ব পরিবর্তন কেবল সরকারের পরিবর্তন নয়, বরং এটি রিয়াদের প্রভাব বলয়ে থাকা ইয়েমেনি প্রশাসনের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠারই নামান্তর। শায়া মোহসেন জিনদানির কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ইয়েমেনকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে কতটা সুবিধা দিতে পারে, তা সময়ই বলে দেবে।
-এম. এইচ. মামুন










