আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে দুদকের ৪ কোটির মামলা

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়ায় এই আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি, ২০২৬) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার মহাপরিচালক আক্তার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।

দুদকের মহাপরিচালক বলেন, “আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা অনুযায়ী মামলাটি করা হয়েছে। অনুসন্ধানে তার অর্জিত সম্পদের সঙ্গে বৈধ আয়ের উল্লেখযোগ্য অসংগতি পাওয়া গেছে।”

দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনিস আলমগীরের নামে মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য মিলেছে। এর মধ্যে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া গেছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।

দুদকের হিসাব অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে আনিস আলমগীরের বৈধ আয়ের পরিমাণ পাওয়া গেছে মাত্র ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে- অতীত সঞ্চয় ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৮২১ টাকা, টক শো ও কনসালটেন্সি থেকে আয়: ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টাকা, প্লট বিক্রি থেকে আয় ২২ লাখ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক সুদ ৩ লাখ ২৪ হাজার ৫৩ টাকা।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বৈধ আয়ের চেয়ে তার অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকা বেশি। এই বিশাল অংকের সম্পদের কোনো বৈধ উৎস দেখাতে না পারায় তাকে অভিযুক্ত করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, মামলার পর এখন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং সম্পদের উৎস সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।

-এম. এইচ. মামুন