নির্বাচন শান্তিপূর্ণ মনে হলেও কাঠামাগত ত্রুটি ছিল: ইডব্লিউএ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আপাতদৃষ্টিতে শান্তিপূর্ণ মনে হলেও কাঠামোগত নানা ত্রুটি ও অনিয়ম ছিল বলে মতামত দিয়েছে ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্স (ইডব্লিউএ)।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ইডাব্লিউএ ‘র মতামত তুলে ধরেন সংস্থার প্রধান মো. শরিফুল আলম।

তিনি বলেন, ভোট আপাত শান্তিপূর্ণ মনে হলেও কাঠামোগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ ছিল। কিছু আমলা, পুলিশ, আনসার সদস্য ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিষয়গুলো নিয়ে গভীর অনুসন্ধান দরকার।
সংবাদ সম্মেলনে ‘নির্বাচন ও নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতি: একটি মূল্যায়ন’ শীর্ষক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে নির্বাচনের আগের একদিন এবং পরের দুই দিনের সহিংসতার দুই শতাধিক চিত্র তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক ছিল। তবে ভোট গণনায় দীর্ঘসূত্রতা, ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব, রেজাল্ট শিটে ঘষামাজার প্রমাণ এবং ভোটার সংখ্যার সঙ্গে ঘোষিত ফলাফলের অসঙ্গতি জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। এসব ঘটনা নির্বাচন ব্যবস্থায় ত্রুটি ও অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। শরিফুল আলম জানান, ভোটের পরবর্তী দুই দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা, মারধর, বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইডাব্লিউএর পর্যবেক্ষণ মতে, শুধু ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেই নির্বাচন সুষ্ঠু বলা যায় না। সুষ্ঠুভাবে ভোট গণনাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে ভোটের আগে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদলের বিষয়গুলো নিয়ে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন সংস্থার প্রধান শরিফুল আলম।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইডাব্লিউএর জেনারেল সেক্রেটারি খোন্দকার জাকারিয়া আহমদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট হেমায়েত হোসেন এবং মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রফিকুজ্জামান রোমান।

-মামুন