মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা শাহ পাহলভি একজন ‘ভদ্র মানুষ’ হলেও দেশটির অভ্যন্তরে তার পর্যাপ্ত জনসমর্থন বা গ্রহণযোগ্যতা আছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ওভাল অফিসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে ৬৫ বছর বয়সি রেজা পাহলভি দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে তিনি একটি পরিচিত মুখ হয়ে উঠলেও ট্রাম্প তাকে পূর্ণ সমর্থন দিতে এখনই প্রস্তুত নন। ট্রাম্প বলেন, “তাকে (পাহলভি) দেখে খুব ভালো মানুষ মনে হয়। কিন্তু নিজ দেশে তিনি ঠিক কতটা গ্রহণযোগ্য হবেন, তা আমি জানি না। আমরা এখনো তাকে সরাসরি সমর্থনের পর্যায়ে পৌঁছাইনি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি জানি না ইরানের মানুষ তার নেতৃত্ব মেনে নেবে কি না। তবে যদি তারা নেয়, তবে সেটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।” উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, পাহলভির সঙ্গে দেখা করার কোনো পরিকল্পনা তার আপাতত নেই।
ইরানে চলমান বিক্ষোভে সহিংস দমন-পীড়ন এবং হাজারো মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় ট্রাম্প উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, বর্তমান বিক্ষোভের চাপে তেহরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, “যেকোনো সরকারই ভেঙে পড়তে পারে, তবে এই মুহূর্তে সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
সাক্ষাৎকারে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে চলমান আলোচনার অচলাবস্থার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরাসরি দায়ী করেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে নিয়ে বিচার বিভাগের তদন্তের বিষয়ে নিজ দলের (রিপাবলিকান) সমালোচনার তোয়াক্কা করেন না বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের ঠিক আগে ইরান ছাড়েন রেজা পাহলভি। বর্তমানে ইরানি বিরোধীরা রাজতন্ত্রপন্থীসহ নানা উপদলে বিভক্ত। যদিও রাজতন্ত্রপন্থীরা তাকে সমর্থন করেন, তবে ইরানের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার রাজনৈতিক ভিত্তি বা সংগঠিত উপস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল।
-এম. এইচ. মামুন










