গণঅভ্যুত্থানের পর পেঁয়াজ ও রসুনসহ প্রায় ২০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষি পণ্যের খুচরা দাম কমেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। দীর্ঘদিন ধরে দেশে এসব পণ্যের উৎপাদন পর্যাপ্ত থাকলেও বাজারে দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখী।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের আগে আলুর খুচরা দাম ছিল কেজিপ্রতি ৬০ টাকা, যা বর্তমানে প্রায় ৫৮ শতাংশ কমে ২৫ টাকায় নেমে এসেছে।
একই সময়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১২০ টাকা থেকে কমে ১০৫ টাকা হয়েছে। আমদানীকৃত পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা থেকে ২৫ শতাংশ কমে বর্তমানে ৭৫ টাকা। দেশি রসুনের দাম ২২০ টাকা থেকে কমে ১২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ৪৫ শতাংশ হ্রাস। চায়না রসুনের দাম ২২০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১৭০ টাকা।
ডালের বাজারেও দাম কমেছে। মোটা জাতের মসুরি ডালের দাম ১১০ টাকা থেকে কমে ১০০ টাকা হয়েছে। মোটা জাতের মুগডাল ১৫০ টাকা থেকে কমে ১১৫ টাকা, খেসারি ডাল ১২০ টাকা থেকে কমে ১০৫ টাকা এবং মাশকলাই ডাল ২০০ টাকা থেকে কমে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোলার দামও ১২০ টাকা থেকে কমে ১০৫ টাকা হয়েছে।
এ ছাড়া খোলা চিনির দাম ১৩৫ টাকা থেকে কমে ১০৫ টাকায় নেমেছে। আমদানীকৃত আদার দাম ৩০০ টাকা থেকে কমে ১৮০ টাকা হয়েছে। শুকনা মরিচের দাম ৩৫০ টাকা থেকে কমে ২৫০ টাকা এবং কাঁচা মরিচের দাম ১৮০ টাকা থেকে কমে ১৪০ টাকা হয়েছে।
সবজির বাজারেও স্বস্তি দেখা গেছে। টমেটোর দাম ১৬০ টাকা থেকে কমে ১২০ টাকা এবং গাজরের দাম ১০০ টাকা থেকে কমে ৬০ টাকা হয়েছে। পোলট্রি পণ্যের দামও কিছুটা কমেছে। দেশি মুরগির কেজি প্রতি দাম ৬০০ টাকা থেকে কমে ৫৮০ টাকা, ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ টাকা থেকে কমে ১৭০ টাকা এবং ডিমের দাম পিসপ্রতি ১২ টাকা ১০ পয়সা থেকে কমে ১০ টাকায় নেমেছে।
এই তথ্যগুলো কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের আগস্ট মাস এবং ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারির হালনাগাদ খুচরা বাজারদরের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে।
হাতিরপুল কাঁচাবাজারে অ্যাডভোকেট সোহেল রহমান বলেন, ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। তাঁর মতে, গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার সীমিত পরিসরে হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে এনে কিছু পণ্যের দাম কমাতে সক্ষম হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একটি নির্বাচিত সরকার এলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও কমবে।
পলাশী বাজারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী উম্মে আফসারা বলেন, আগের শাসনামলে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, যার ফলে নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, একসময় কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি দেড় হাজার টাকারও বেশি ছিল, তবে সরকারের সদিচ্ছার কারণেই বর্তমানে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
সূত্র:বাসস
আফরিনা সুলতানা/










